উৎপাদিত ধান বীজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবি, কমলগঞ্জে চুক্তিবদ্ধ চাষীদের মানববন্ধন

July 24, 2023,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ কমলগঞ্জে উৎপাদিত ধান বীজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর চুক্তিবদ্ধ চাষীরা।

বিএডিসি চুক্তিবন্ধ চাষী সমিতি কমলগঞ্জের উদ্যোগে সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনা চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন প্রদান করা হয়।

বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষী সমিতি, কমলগঞ্জের সভাপতি নগেন্দ্র কুমার সিনহার সভাপতিত্বে ও শামসুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন আতিকুল ইসলাম, আজাদ হোসেন, মোবাশি^র আলী, আশরাফ আলী, আব্দুল মালিক, সুমন মিয়া প্রমুখ।

বীজ উৎপাদনকারী চাষীরা বলেন, খাদ্যের ধান উৎপাদন করতে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় না। তবে বীজ ধান উৎপাদনের জন্য অধিক সতর্কতা অবলম্বন হয়।

তাছাড়া একই জাতের বীজ একই বীজতলায় বপন করতে হয়। একই জায়গায় একজাত বীজধান রোপন করতে হয়, পারচিং দিতে হয়, বড়লাইন দিতে হয়, রগিং করতে হয়। সব জাতের সুষম জৈব সার দিতে হয়, পোকা মাকড় দমন ও রোগ বালাই করতে হয়।

বর্তমানে সার, ডিজেল, পরিবহন ব্যয়, শ্রমিকের মূল্য এবং গ্রেডিং এর মূল্য চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধান শুকানো সহ সর্বদা দাম নিম্নমুখী করা হয়েছে।

বাজারে যে ধান বিক্রি করা হয় সে ধানের আদ্রর্তা ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ ও খঢ়, ধুলা, চিটাসহ থাকে। অথচ বীজ উৎপাদনকারী চাষীরা বীজ ধানের আদ্রতা ১৪ শতাংশের মধ্যে রাখতে হয় এবং এর মধ্যে খড়, ধুলাবালি, চিটা মুক্ত করে দিতে হয়।

বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে বিএডিসি বীজের যে দাম দেয়ার সিদ্ধান্ত করেছে তাতে উৎপাদন খরচই উঠছে না। বোরো ধান বীজের দর পুণ:নির্ধারণের জন্য সম্প্রতি বিএডিসি’র সিলেটস্থ উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা ধার্য করা হয়। পরে চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান।

বীজ উৎপাদনকারী চাষীরা জানান, গত ধান বীজের প্রদানকৃত দর ২০২২-২৩ উৎপাদন বর্ষে তাদের জন্য বীজ উৎপাদন ব্যয় মিটানো সম্ভব হচ্ছে না।

গত পাঁচ জুলাই সিলেট জোনের উপ-পরিচালকের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে বীজ ধানের কেজি প্রতি এক টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এতে চাষীরা এক টাকা বৃদ্ধিতে লোকসান কোনমতেই কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়। সারাদেশে দ্রব্যমূল্য যখন আকাশচুম্বি, সরকারের ধান, চাল সংগ্রহে দাম বৃদ্ধি সেখানে ধান বীজ সংগ্রহে দর নিম্নমুখী করায় চুক্তিবদ্ধ চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে ধান বীজ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা আরও বলেন, ১৯৮১ সালের নিয়মে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ দর নির্ধারণ করেছে। পক্ষান্তরে বীজ সরবরাহের ক্ষেত্রে বিএডিসি গ্রেডিং চার্জ কেজি প্রতি ১৫ পয়সা থেকে ৪ গুণবৃদ্ধি করে ৬০ পয়সা করেছে।

অথচ যে প্রক্রিয়া দর ধার্য করা হয় সেবিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নজরদারি না করে আগের নিয়মে দর ধার্য করেছেন। কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধান বীজ সরবরাহের ৩ থেকে ৭ মাস পর বিল প্রদান করা হয়।

এতেও আমরা চুক্তিবদ্ধ চাষীরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অথচ চাল-ধান সংগ্রহের পর সাথে সাথে বিল প্রদান করা হয়। চুক্তিকালে ধানের কোন দর নির্ধারণ করা হয় না।

বর্তমানে জমি লিজ, সেচ, সার, কীটনাশক, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ আনুষঙ্গিক খরচাদি উর্ধ্বমুখী। সবমিলিয়ে বর্তমানে বীজ উৎপাদন খরচের তুলনায় চুক্তিভিত্তিক চাষীদের কম মূল্য দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ধান বীজের উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে কেজি প্রতি ৫২ থেকে ৫৪ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বীজের মূল্য দেরীতে ও তিন কিস্তিতে না দিয়ে বীজ ধান সংগ্রহের দ্রুত সময়ের মধ্যে এক কিস্তিতে বিল প্রদানের দাবি জানান তারা।

আগামীতে বীজধান সংগ্রহের পূর্বে বীজের যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করে বীজধান সংগ্রহ করার জন্যও কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি তুলেন। অন্যতায় আগামী আউশ ও আমন মৌসুমে বিএডিসিকে বীজধান সরবরাহ করবেন না।

মানববন্ধন শেষে বীজ উৎপাদনকারী চাষীরা মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে ধান বীজের মূল্য বৃদ্ধির জন্য লিখিত আবেদন দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে বিএডিসি’র সিলেট বিভাগী উপ-পরিচালক আশুতোষ দাস বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখেন। আমাদের কাছে চাষীদের অভিযোগের বিষয় আমরা সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com