জনতার হাতে আটক কয়েকজন জঙ্গিকে নিয়ে অভিযানে নেমেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট

স্টাফ রিপোর্টার॥ জনতার হাতে সোমবার সকালে আটককৃত ১৭ জন জঙ্গীকে ওই দিন রাত ৮ টার দিকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তাদের হেফাজতে নেওয়ার পর মঙ্গলবার ১৫ আগষ্ট সকালে অভিযানে নেমেছে।
জেলার কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব টাট্টিউলী গ্রামের জুগি টিলার বাজার সংলগ্ন পাহাড়ী বাইশহালি টিলার ওই জঙ্গি আস্তানা এলাকায় আরও জঙ্গি আস্তানা রয়েছে এমন সন্দেহে অভিযানে নেমেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
মঙ্গলবার সকাল ৭ টার দিকে আটককৃত ১৭ জনের মধ্যে ৩ জনকে নিয়ে অভিযানে ওই এলাকায় যায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এ অভিযানে নেতৃত্বে রয়েছেন সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন কর্মকর্তারা।
অভিযানে সোয়াট টিমসহ মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে। ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ১০-১২টি মাক্রোবাস ও অন্যান্য গাড়ি যোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওখানে পৌঁছান।
জঙ্গি আস্তানার পূর্ব দিকে পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা তারা সকাল থেকেই দেখছেন।
জানা যায় সোমবার সকালে কর্মধা ইউনিয়নের আছকরাবাদ বাজার থেকে গাড়ি চালক ও স্থানীয় লোকজন ১৭ জন জঙ্গিতে আটক করে কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখে।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও পরে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। দিনভর অপেক্ষার পর রাত ৭টার দিকে সিটিটিসির প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে সোয়াটের একটি টিম কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদে এসে পৌঁছায়।
রাত সাড়ে ৮ টার দিকে প্রেসব্রিফিংয়ে কাউন্টার টেরিরিজম প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন আটককৃতদের মধ্যে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রয়েছেন। ১৭ জন দূর্গম পাহাড়ী এলাকা থেকে সমতলে আসলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় আটক হয়।
আটককৃতরা নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদ কাফেলা’র সদস্য বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আমরা আগেই বলেছিলাম এখানে তাদের আরও আস্তানা আছে।
এই ধারাবাহিকতায় সোমবার তারা আস্তানা থেকে পালানোর চেষ্টাকালে স্থানীয়রা আটক করেন। আমার ওই এলাকায় আরও অভিযান করবো।
তাদেরকে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদেরও প্রয়োজন। আশা করি তাদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। এরপরে বিস্তারিত বলা যাবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজােরর পুলিশ সুপার মো: মনজুর রহমান পিপিএম (বার) ও কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার সফিক, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালেক সহ পুলিশের উর্ধ্বোতন কর্মকর্তারা।
প্রেসব্রিফিংয়ের পূর্বে কঠোর বেষ্ঠনীর মধ্যে ৩ টি মাক্রোবাসে জনতার হাতে আটক ১৭ জনকে পুলিশ হেফাজতে অন্যত্র নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য জেলার কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব টাট্টিউলি গ্রামের পাহাড়ী জুগি টিলার বাজার সংলগ্ন বাইশহালি টিলা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি শুক্রবার বিকেল থেকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন,সোয়াট ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্যরা ঘিরে রাখেন।
শনিবার ১৩ আগষ্ট ভোর থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এর নেতৃত্বে সিটিআই বিভাগের একটি টিম সোয়াট ওই বাড়িতে “অপারেশন হিলসাইড” পরিচালনা করে।
ওই অভিযানে কোন হতাহতের ঘটনা ছাড়াই ৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী জঙ্গীকে আটক করা হয়। এসময় ওদের তিন শিশুকে হেফাজতে নেয়া হয়।
জঙ্গি আস্তানা থেকে ২.৫ কেজি বিস্ফোরক, ৫০ টি ডেটোনেটর, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, জিহাদি বই, কমান্ডো বুটসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ সরঞ্জামাদি, ছুরি-রামদাসহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র এবং নগদ ৩ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।



মন্তব্য করুন