খাদেমকে লাঞ্ছিতের দায়ে মসজিদ কমিটি থেকে পদ হারালেন বিএনপি নেতা

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রীমঙ্গল জামে মসজিদের খাদেম আব্দুল লতিফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মসজিদ পরিচালনা কমিটির নির্বাহী সদস্য পদ থেকে বিএনপির নেতা জয়নাল চৌধুরীকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ২১ অক্টোবর সকালে জামে মসজিদ কমিটির জরুরি এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মঙ্গলবার বাদ জুহর জামে মসজিদের ভেতরে কয়েক শত মুসল্লির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত জয়নাল চৌধুরী। তিনি শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির নির্বাহী সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
খাদেমের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, সোমবার ২০ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর খাদেম আব্দুল লতিফ মসজিদের দরজার গ্রিল লাগাচ্ছিলেন। এ সময় মসজিদের ভেতরে উপস্থিত জয়নাল চৌধুরী দরজা লাগানোর শব্দে ক্ষিপ্ত হয়ে ‘শব্দ হলো কেন’ বলেই খাদেমের ওপর চড়াও হন।
অভিযোগ ওঠেছে, জয়নাল চৌধুরী কোনো কথা না শুনেই খাদেম আব্দুল লতিফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন, ধমক ও হুমকি দেন। ঘটনার পর খবর পেয়ে মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন এশার নামাজের পর উপস্থিত মুসল্লিরা প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরে শ্রীমঙ্গলের সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ ও স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ শেষে প্রতিবাদকারীরা অভিযুক্ত জয়নাল চৌধুরীকে ১১টার ভেতরে মসজিদ কমিটি এবং দল থেকে পদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করে সুষ্ঠু বিচারেরর দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবন্দের কাছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে জয়নালের শাস্তির দাবি জানান।
এর প্রেক্ষিতে মসজিদ কমিটি কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা ডেকে সর্বসম্মতিক্রমে জয়নাল চৌধুরীকে মসজিদ কমিটি থেকে অব্যহতি দেন। সভায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা নুরে আলম সিদ্দিকী, ইয়াকুব আলী, সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাবেক সহ-সভাপতি মহসিন মিয়া মধু উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে খাদেম আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমি প্রতিদিনের মতো নামাজ শেষে দরজা লাগাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে জয়নাল সাহেব এসে রেগে গিয়ে আমাকে ধমক দেন। আমি কিছু বলার আগেই তিনি আমার গায়ে হাত তোলেন। আমি ১৫ বছর ধরে এই মসজিদে সেবা করছি, কখনো এমন আচরণ পাইনি। আমি আল্লাহর ঘরে অপমানিত হয়েছি, এটা খুব কষ্টের। তবে মঙ্গলবার জুহরের নামাজের পর তিনি মসজিদে সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, আমার কাছে মাফ চেয়েছেন আমি মাফ করে দিয়েছি। এই ঘটনা সুষ্ঠুভাবে সমাধান হয়েছে।’
জয়নাল চৌধুরী বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত এমন ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করেছি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।’
নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছিল। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে সভা ডেকে বিষয়টি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা হয়েছে।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘সোমবার রাতে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিরসনে সংশ্লিষ্টদের কথা বলেছি। মঙ্গলবার জুহরের নামাজের পর মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সুন্দরভাবে সমাধান করে দিয়েছেন।’



মন্তব্য করুন