তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক নয় বরং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে

মোস্তফা সালেহ লিটন : বর্তমানে একটি বিশেষ মহল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে যা কেবল অনভিপ্রেত নয় বরং গভীর উদ্বেগের বিষয়। অথচ সচেতন দেশবাসী মনে করেন তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয় বরং এটি সময়ের দাবি এবং রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য দায়িত্ব। তারেক রহমান কেবল একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাই নন তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির একজন পরীক্ষিত নেতা ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থেকে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যে নেতা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে অবিচল থেকেছেন তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে যারা আজ প্রশ্ন তুলছেন তারা মূলত ইতিহাসের দায়বদ্ধতাকেই অস্বীকার করছেন। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না তারেক রহমান সেই পরিবারের উত্তরসূরি যার রক্তে মিশে আছে এদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা। তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, মহান মুক্তিযোদ্ধা এবং গৌরবময় জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং রাষ্ট্রের সেনাপ্রধান। তাঁর মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী যিনি আপসহীন নেত্রী হিসেবে কোটি মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন। এমন একটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে তারেক রহমানের জীবনের নিরাপত্তা বর্তমানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বাংলাদেশে তাঁর জীবনের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান। একটি কথা প্রচলিত আছে “দমকলের পাইপ আর বদনার নল যেমন এক নয় তেমনি ইতিহাসের মহানায়কের সাথে সুযোগ সন্ধানীদের তুলনা করাও বোকামি। বছরের পর বছর জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও তিনি রাজনীতিতে অটল থেকেছেন। তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা বা নাটক সাজানো মানে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। পরিশেষে বলতে চাই, সংকীর্ণ ও সুযোগ সন্ধানী রাজনীতি পরিহার করে আমাদের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। প্রতিহিংসার মাধ্যমে প্রকৃত নেতৃত্ব অর্জন করা সম্ভব নয়। সুস্থ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে। তাই জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে তারেক রহমানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন দাবি।



মন্তব্য করুন