জুলাই আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়

মোস্তফা সালেহ লিটন : একটি স্বাধীন জাতির ঘাড়ে চেঁপে বসা ১৫বছরের একটি ভয়াবহ দানবকে বিদায় জানাতে এবং সাধারন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি ন্যায়বিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নে দল-মতনির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমেছিল। সেই আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা হাসনাত, সারজিস, আসিফ ও নাহিদরা তখন কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তারা সেই জায়গাটা ধরে রাখতে পারলেন না। ক্ষমতার লোভ আর দ্রুত রাজনীতির মঞ্চে যাওয়ার তাড়না তাদের পথচ্যুত করেছে। সংসদে যাওয়ার জন্য এখন তারা বি এন পির নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করছে তা জাতিকে দারুন ভাবে হতাশ করছে । জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যে জামায়াতকে নিয়ে কিছুদিন আগেও তারা প্রশ্ন তুলেছিলো অথচ আজ সেই জামায়াতের সঙ্গেই হাত মিলিয়ে নির্বাচনী জোট বেধেঁছে এটা সাধারন মানুষ ভালো চোখে নেয়নি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই নীতিহীন কৌশল নতুন কিছু নয় কিন্তু জুলাই বিল্পবের নেতৃত্বের কাছ থেকে মানুষ এমনটা আশা করেনি। সবচেয়ে হতাশার জায়গা হলো যাদেরকে একসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ দেখা যেত আজ তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে । জাশিরের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের কোনো প্রতিবাদ নেই অথচ সারাদিন বিএনপি বিরোধী প্রোপাগান্ডা। এতে প্রশ্ন ওঠে তাদের এই নীরবতা কি আদর্শের, নাকি হিসাবের?
রাজনীতিতে কৌশল অপরিহার্য কিন্তু তা যখন আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে হয় তখন তাকে সুবিধাবাদী বলা ছাড়া উপায় থাকে না। জামায়াতের মতো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে হাত মেলানো এন সি পির সেই বিশ্বাসের ভিত্তিকে জনগনের কাছে দুর্বল করে দিয়েছে। যে তারুণ্য পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল তারাই যখন পুরোনো রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হয়ে যায় তখন সাধারন মানুষের কাছে সেই বিপ্লবীরা আর নিঃস্বার্থ থাকে না। জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামকে ক্ষমতার ‘রাজনৈতিক মূলধন’ হিসেবে ব্যবহার করার পরিনতি তাদেরকে অবশ্যই ভোগ করতে হবে । জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নের সারথীরা যখন ধৈর্য, নৈতিকতা এবং দূরদর্শিতার চেয়ে ক্ষমতার জন্য মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে তখন ইতিহাস তাদের কঠোর বিচার করে। রাজনীতিতে ‘সুন্দর কথা’ দিয়ে সাময়িক মুগ্ধতা তৈরি করা যেতে পারে নিজেদের কর্মের স্বচ্ছতা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী জনসমর্থন পাওয়া অসম্ভব। জুলাইয়ের নেতৃত্ব দেয়া বিল্পবীরা জনগণের হৃদয়ে যে সিংহাসনের আসনে বসেছিলেন অচিরেই তারা সেই আসন থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হবেন । ইতিহাস এমনটাই বলে ।



মন্তব্য করুন