প্যারিসে ঐতিহাসিক মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হলো

January 14, 2026,

আবুল কালাম মামুন ফ্রান্স থেকে : অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, কুলাউড়া সরকারি কলেজ, ফ্রান্স”-এর উদ্যোগে এক ঐতিহাসিক মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।

১০ জানুয়ারি শনিবার প্যারিসের পাশ্ববর্তী ওভারভিলিয়ে একটি অভিজাত হলরুমে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ফ্রান্সে বসবাসরত কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন “অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, কুলাউড়া সরকারি কলেজ, ফ্রান্স” এর উদ্যোগে এক ঐতিহাসিক মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যতিক্রমধর্মী এই অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সুবিশাল হলটি ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। দল-মত নির্বিশেষে সবার মিলনমুখর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক আনন্দঘন ও অবিস্মরণীয় মিলনমেলায়। শিক্ষার শেকড়ের টানে এবং স্মৃতিচারণের আবেশে ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন এই আয়োজনে। পুরো অনুষ্ঠানে যেন প্যারিস শহরে একখণ্ড কুলাউড়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের আনন্দ ও ভালোবাসার জোয়ার বইতে থাকে।

সংগীতশিল্পী সুমা দাস, মো. লুৎফর রহমান বাবু ও আহমেদ জুনেদ ফারহানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতেই ভায়োলিনে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন আরশী চৌধুরী। এরপর কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রয়াত সকল শিক্ষকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কলেজের প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ চৌধুরী। তিনি কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যাঁরা নিরলসভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারী সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী লুলু আহমেদ, মো: মিরজান আলী, আতিকুর রহমান, অজয় দাস, হাসান সিরাজ, কিশোর দে ও সিপার আহমদ।

দ্বিতীয় পর্বে স্মৃতিচারণ করেন হেপী দে, পারভেজ রশিদ খান, আবুল কালাম মামুন,আব্দুর রহমান, মনধীর কুমার বোস, সামাদ খান রাজু, হাফিজুর রহমান, এম. আশরাফুর রহমান, লুৎফর রহমান শাহান শহিক ও জুয়েল মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্বরূপ উত্তরীয় ও ব্যাজ পরিয়ে দেন ফরাসি নাগরিক, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রকৌশলী ঝল্কনধংঃরবহ ঈধৎরৎরয়ঁব জধর ঝযরনধলর।

সাংস্কৃতিক পর্বে গানে গানে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী জলের গান খ্যাত রাহুল আনন্দ ও সুমা দাস। রাহুল আনন্দের অনন্য, জাদুকরী কণ্ঠ ও সুরে পুরো হল নাচ-গান ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। দর্শকরা তাঁর পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রাণভরে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করেন জিএম শরিফুল ইসলাম ও তাঁর দল সৃজনশীল নৃত্যাঙ্গন। শিশু শিল্পীদের পরিবেশিত নৃত্য ও আবৃত্তিও দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে সামাজিক, রাজনৈতিক ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সংক্ষিপ্ত অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ফ্রান্সে বসবাসরত কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলা একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এমন মনোমুগ্ধকর আয়োজনে পুরো অনুষ্ঠান আনন্দের জোয়ারে ভেসে গেছে, যা সত্যিই সকলকে অভিভূত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com