মৌলভীবাজার-২ : বিএনপি প্রার্থীর জয়ে ভূমিকা রাখলো চা-শ্রমিকরা

মাহফুজ শাকিল : চায়ের দেশ মৌলভীবাজারের চারটি নির্বাচনী আসনে জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক হলো চা শ্রমিকদের ভোট। জেলার চারটি আসনেই ৯২টি চা-বাগানের শ্রমিকদের ভোট প্রভাব ফেলেছে ফলাফলে। বিশেষ করে চা-শ্রমিকসহ ক্ষুদ্র-নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী এবার ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীককে বেছে নেয়। যারকারণে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা সহজেই জয় পেয়েছে চারটি আসনে। চা-বাগান অধ্যুষিত ১৫টি কেন্দ্রের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রায় ত্রিশ হাজার ভোট রয়েছে এসব কেন্দ্রে। এরমধ্যে প্রায় ২১ হাজারের বেশি ভোটাররা ভোট প্রদান করেন। তন্মধ্যে, বিএনপির ধানের শীষের শওকতুল ইসলাম শকু পেয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার ভোট। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এম সায়েদ আলী পেয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোট। বাকি প্রার্থীরা মিলে মাত্র ৩ হাজার ভোট পান।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের ১০৩ ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে চা-শ্রমিক অধ্যুষিত ১৫ টি ভোট কেন্দ্রে নারী-পুরুষ ভোটারদের ছিল স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ভোটের দিন সকাল আটটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অন্তত ৭-৮টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই উপজেলার সবক’টি চা-বাগান কেন্দ্রগুলোতে নারী-পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠীর নাগরিকরাও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দেন। গাজীপুর, রাঙ্গিছড়া, ক্লিভডন, দিলদারপুর, লংলা, তারাপাশা, তিলকপুর, চাতলাপুর, লুয়াইউনি হলিছড়া, বরমচালসহ ১৫টি চা-বাগান কেন্দ্রে সকাল থেকেই উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্য সহকারে ভোট দেওয়ার অপেক্ষা করেন। তারা জানান, এবার অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
অনেকের ধারণা, আওয়ামীলীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় আমরা ভোট দিতে যাবো কি যাবোনা। কিন্তু আমাদের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি প্রমাণ করেছে ভোটের উৎসবে চা-শ্রমিকরা পিছিয়ে নেই। আমাদের বিশ^াস ছিল, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সরকার গঠন করবে। তাই দেশের সামগ্রকি উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের চা-বাগানের লোকদের দাবি-দাওয়া পূরণে কাজ করবে। এজন্য বিএনপির প্রার্থীকে বিপুল ভোটে আমরা বিজয়ী করেছি। আশা করছি, তারাও আমাদের মূল্যায়ন করবে।
রাঙ্গিছড়া চা-বাগানের বাসিন্দা সত্য নাইডু ও কালিটি চা-বাগানের বাসিন্দা দয়াল অলমিক বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া আমাদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে এবার ভোটের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। যারা শুধু নির্বাচনের আগে নয় নির্বাচনের পরও চা শ্রমিকদের পাশে থাকার আশ^াস দিয়েছে আমরা তাদেরকেই ভোট দিয়েছি। তারা আরো বলেন, নির্বাচিত এমপি সংসদের গিয়ে চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ভূমির অধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।
ঝিমাই খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী রানা সুরং বলেন, কুলাউড়ায় প্রায় ৩০টি খাসিয়া পান পুঞ্জি রয়েছে। এসব পুঞ্জির অনেক লোক ৮-১০ কিলোমিটার দূরের কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। আমরা এবার ধানের শীষকে ভোট দিয়েছি। এখন আমাদের একটাই চাওয়া, ভূমির অধিকারসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে নির্বাচিত সাংসদ যেন অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
বিএনপির নব-নির্বাচিত এমপি শওকতুল ইসলাম শকু বলেন, কুলাউড়ার সবক’টি চা-বাগানের শ্রমিকসহ খাসিয়া জনগোষ্ঠীর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এবারের নির্বাচনে তারা রেকর্ড সংখ্যক ভোট দিয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের ন্যায্য দাবি পূরণে ও সমস্যা নিরসনে কাজ করবো।
উল্লেখ্য, কুলাউড়ায় ১৩টি ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় মিলে মোট ভোটার সংখ্যা হলো ৩ লাখ ৩ হাজার ২০। পোস্টাল ভোট গণনাকেন্দ্রসহ মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা হলো ১০৪। মোট প্রদত্ত ভোট হলো ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮১৯। বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১৮। বাতিল ভোট ৪ হাজার ৬০১। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫৬.০৪ শতাংশ। এদিকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৮৩ হাজার ৯৩০। না ভোট পড়েছে ৬৭ হাজার ৯৩৫।



মন্তব্য করুন