খাল পুন:খনন কাজের উদ্বোধন, খাদ্যের উৎপাদন দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে- আরিফুল হক চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার :মৌলভীবাজার জেলা সংবাদদাতা : শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের কৃষি বিপ্লবে খাল কাটা কর্মসূচি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। বিগত সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই কর্মসূচি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল, যার ফলে দেশে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং বাংলাদেশ ধান রপ্তানিতে সক্ষমতা অর্জন করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার পুনরায় এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। খালের পানি ব্যবহার করে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে রবিশস্য ও শাকসবজি উৎপাদন দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি সোমবার ১৬ মার্চ দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের আনিকেলি বড় এলাকায় কাটাগাং খাল পুন:খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সারাদেশের ন্যায় মৌলভীবাজারেও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে দেশব্যাপী ‘খাল কাটা কর্মসূচি’। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশে একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খালের পানি ব্যবহার করে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে রবিশস্য ও শাকসবজি উৎপাদন দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। খালগুলো সচল হওয়ার ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কর্মসূচিকে সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষ অতি দ্রুত এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে শুরু করবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা মরহুম অর্থ মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সিলেট বিভাগে সব চাইতে বেশি খালকাটা কর্মসুচী বাস্তবায়ন করেছিলেন এই মৌলভীবাজার জেলায়। যে গুলো করা হয়েছিল আজও বিদ্যমান। এগুলো কে আবার পূণ: খনন করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন- আমার নেতা শহীদ রাষ্ট্র পতি জিয়াউর রহমান কোদাল হাতে নিয়েছেন আমরাও কোদাল টুকরি হাতে নিয়ে মাঠে নামবো। আমাদের ছাত্রসমাজ নামবে আমাদের যুব সমাজ নামবে আমাদের কৃষক নামবে সবাই নামবে।
মন্ত্রী বলেন আমি যদিও সিলেটের বলা হয় আমি তো মৌলভীবাজারের সন্তান। মৌলভীবাজারের সন্তান হিসাবে আমি মনে করি। আর আমার নেতা হচ্ছেন রাজনীতির এ পর্যায়ে উঠে আসার পেছনে তিলে তিলে যিনি আমাকে তৈরি করেছেন তিনি হচ্ছেন মরহুম অর্থ মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান।
আমি আজকে কমিশনার থেকে মেয়র। মেয়র থেকে এমপি। এমপি থেকে মন্ত্রী হয়েছি। এর পেছনে যদি কারো কোনো অবদান থাকে তিনি হচ্ছেন আমার রাজনৈতিক গুরু আমার নেতা মরহুম এম সাইফুর রহমান। এবং তাঁর সঙ্গে থেকে আমি কাজ করার যে সুযোগ পেয়েছিলাম তার জন্য আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাদের অত্যন্ত আপনজন ছিলেন এবং বিশ্বস্ত মরহুম এম সাইফুর রহমান সহ সকলের জন্য দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁদেরকে জান্নাত বাসী করেন।
সাংবাদিককের এক প্রশ্নের জবাবে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, দেশের জলাশয় সংস্কার ও কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় সচল করেছে বর্তমান সরকার। খাল খনন কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল সত্তরের দশকের শেষভাগে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে এই উদ্যোগকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন এরশাদ সরকার এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপে প্রকল্পটি আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ বর্তমানে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় মৌলভীবাজার জেলাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পর্যায়ক্রমে খনন কাজ চালানো হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু খালের কাজ শুরু হয়েছে এবং বাকিগুলোও মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।
আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খাল খনন সম্পন্ন হবে। এই প্রকল্প সফল হলে মৌলভীবাজারসহ সারা দেশের কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের এই ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, মনু নদী থেকে এই খাল পর্যন্ত যে পানি প্রবাহ, এই প্রবাহটা স্বাভাবিক রাখার জন্য, সেচের আওতায় আনার জন্য ইতোমধ্যে বিএডিসি কর্তৃক একটা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আশা রাখি এই প্রকল্পের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে এবং এখানকার মানুষ সেই প্রকল্পের সুফল পাবে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়নে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় সারা দেশের ন্যায় নদী-নালা,খাল, জলাধার খনন ও পুন: খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, বিএডিসির প্রধান প্রকৗশলী মো: বদরুল আলম সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএডিসির প্রকৌশলী প্রভাত সাহা। কর্মসূচির আওতায় ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার কাটাগাং খাল পুন:খনন করা হবে।




মন্তব্য করুন