গবেষণায় শ্রীমঙ্গলের ৯ শিক্ষার্থীর অভাবনীয় সাফল্য: জয় করল ‘খুদে গবেষক পদক’

October 19, 2026,

সাইফুল ইসলাম : জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের গবেষণা প্রতিযোগিতায় অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ৯ জন শিক্ষার্থী। স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা সংগঠন ‘চিন্তার চাষ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ১১তম চিন্তার চাষ খুদে গবেষক সম্মেলনে তারা জয় করে নিয়েছে কাঙ্ক্ষিত ‘খুদে গবেষক পদক’।

‘পথচলা আলোর সাথে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৩ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনসহ (টিএসসি) ৮টি ভেন্যুতে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের ৫৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ৩১৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তারা মোট ১২৮টি গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপনের পাশাপাশি গবেষণালব্ধ ফলাফল ও সমাধান নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক আলোচনায় অংশ নেয়।

দিন শেষে ৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে মোট ২৭টি গবেষক দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলের ৩টি নামীদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ জন শিক্ষার্থী তাদের চমৎকার গবেষণাকর্মের জন্য জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

প্রতিযোগিতায় শ্রীমঙ্গলের নটর ডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভাদিত্য বিশ্বাস, স্বর্ণদ্বীপ পাল ও বিবেক রায় রুদ্র ‘খ’ গ্রুপে (শিক্ষা) দলগত পোস্টার উপস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের গবেষণার বিষয় ছিল—‘নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই কি শিক্ষার্থীদের জন্য যথোপযুক্ত?’।

একই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী চিন্ময়ী ভট্টাচার্য গবেষণাপত্রের একক মৌখিক উপস্থাপনায় ‘খ’ গ্রুপে (শিক্ষা) জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। তার গবেষণার বিষয় ছিল শিক্ষার্থীদের ভাষার দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলার বিভিন্ন মাধ্যম অনুসন্ধান।

এছাড়া সেন্ট মার্থাস উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদা আমিন আদিবা ও অন্বেষা ধর দলগত পোস্টার উপস্থাপনায় ‘খ’ গ্রুপে (শিক্ষা) জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের গবেষণার বিষয় ছিল—‘কিশোর-কিশোরীদের ওপর বিভিন্ন মানসিক চাপের কারণ, প্রভাব ও নিরসনের উপায়’।

অন্যদিকে ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আছাদুজ্জামান শিহাব, মাহির আহনাফ আবিদ ও জয়দীপ দেব দলগত গবেষণাপত্রের মৌখিক উপস্থাপনায় ‘খ’ গ্রুপে সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তাদের গবেষণার বিষয় ছিল—‘ব্যর্থতার আতঙ্ক বর্তমান শিক্ষা সমাজকে কীভাবে প্রভাবিত করছে তা অনুসন্ধান’।

সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বিজয়ী শিক্ষার্থী চিন্ময়ী ভট্টাচার্য বলে, “চিন্তার চাষ খুদে গবেষক সম্মেলনে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতে আরও নতুন কিছু শেখা, নতুন নতুন বিষয়ে গবেষণা করা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”

অপর বিজয়ী শিক্ষার্থী শুভাদিত্য বিশ্বাস জানায়, “গবেষণা থেকে যে বাস্তবমুখী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আমরা অর্জন করেছি, তা ভবিষ্যতে দেশের অগ্রযাত্রায় কাজে লাগাতে চাই।”

শিক্ষার্থীদের এই অনন্য অর্জনে গর্ব প্রকাশ করে ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী বলেন, “এটি দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এক অনন্য সংযোজন। সাধারণ নিয়মে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার (স্নাতক) সময় গবেষণার সুযোগ পায়; কিন্তু এ ধরণের উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক স্তর থেকেই গবেষণার হাতেখড়ি পাচ্ছে। বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তারা শিখতে পারছে কীভাবে একটি গবেষণাপত্র তৈরি ও উপস্থাপন করতে হয়।”

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এমন অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নটর ডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার প্রশান্ত নিকোলাস ডি ক্রুজ বলেন, “১১তম চিন্তার চাষ খুদে গবেষক সম্মেলনে আমাদের শিক্ষার্থীরা ‘খ’ বিভাগে একক ও দলীয়—উভয় ক্যাটাগরিতেই সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে, যা পুরো নটর ডেম পরিবারের জন্য এক মহতী অর্জন ও চরম গর্বের বিষয়। খুদে গবেষকদের এই অভাবনীয় সাফল্য এ অঞ্চলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণা, গঠনমূলক চিন্তা ও নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রতি প্রবল আগ্রহ জাগিয়ে তুলবে।”

সম্মেলনের তাৎপর্য তুলে ধরে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সুদর্শন শীল বলেন, “এই ধরনের অনুশীলন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার প্রতি আগ্রহ, যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের মানসিকতা বিকাশে সহায়ক হবে। তাদের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল কাজে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করবে।”

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com