শ্রীমঙ্গলে কবির-লালন ভাবসংগীত উৎসবের সমাপ্তি, হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি সংরক্ষণে কাজ করছে সরকার-মুজিবুর রহমান চৌধুরী

October 31, 2026,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : তারেক রহমানের সরকার সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি সংরক্ষণেও কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

শুক্রবার ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলে কবির-লালন ভাবসংগীত উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আজকের এই কবির-লালন ভাবসংগীত উৎসবও তার একটি উদাহরণ। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেশব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজন শেষ নয়, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত কবির-লালন ভাবসংগীত উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, মহৎ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সত্য ইতিহাসবোধের গভীর শিক্ষাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাদের নৈরাজ্য ও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা রুখতে সাংস্কৃতিক জাগরণ প্রয়োজন। কবির ও লালন ফকিরের কালজয়ী ভাবাদর্শ অনুধাবন এবং অনুসরণের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ বলেন, কবির ও লালনের জীবন এবং বাণী থেকে মানবতার শিক্ষা পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানবতা, সহানুভূতি ও আধ্যাত্মিক চিন্তার এক মহামিলন ঘটেছে।

অনিরুদ্ধ দাশ আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ভাবসংগীত সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবির-লালন গবেষক আবেদল মান্নান। সভাপতির বক্তব্যে আবেদল মান্নান বলেন, কবির ও লালন ফকিরের কালজয়ী দর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা এবং জীবনবোধকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁদের বাণী ও ভাবাদর্শের চর্চার মধ্য দিয়ে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। লালন বিশ্বসংঘের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে এ উৎসবের যাত্রা শুরু হয়। দেশের ছয়টি বিভাগ—বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে উৎসবের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে আসা কবির-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা ভাবসংগীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চা-বাগানে কর্মরত শ্রমজীবী কবিরপন্থী ও রবিদাস সম্প্রদায়ের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

আয়োজকদের মতে, কবির ও লালন ফকিরের কালজয়ী ভাবাদর্শ অনুধাবন, ভাবসংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবতাবাদী চেতনা ছড়িয়ে দেওয়াই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com