বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন শায়খ হাফেজ ক্বারী আমির হোসেন এর দাফন সম্পন্ন, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের  শোক প্রকাশ

November 7, 2026,

লন্ডন প্রতিনিধি : হাজার হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে এবং শ্রদ্ধা ও অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় সমাহিত হলেন বাংলাদেশের কানাইঘাটে জন্মগ্রহণ কারী “কভেন্ট্রির বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন শায়খ হাফেজ ক্বারী আমির হোসেন।

শুক্রবার ৬ নভেম্বর বাদ জুম্মা কভেন্ট্রির ঈগল স্ট্রিট নুরুল ইসলাম জামে মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে মরহুমের জানাজার নামাজের ইমামতি করেন হাফেজ আমির হোসেনের সুযোগ্য নাতি মাওলানা হামজা খাঁন। আগতদের উদ্দেশ্যে নামাজ পুর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মরহুমের মেঝো ছেলে মাওলানা শাকির আহমেদ। মরহুমের কর্মময় জীবনে কারো মনোকষ্টের কারন হয়ে থাকলে তার পক্ষ থেকে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

নামাজ শেষে কভেন্ট্রির লেন্টন লেন সিমেট্রির মুসলিম গোরস্তানে তাঁকে তার স্ত্রীর কবরে পাশে সমাহিত করা হয়।

মরহুমের বড় ছেলে চৌধুরী হাফিজ আহমেদ ও মরহুমের দামান্দ সাংবাদিক নোমান রাজা পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে উনার বাবার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর বাদ যোহর দুপুর ২টায় উনার কভেন্ট্রির বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারনে তিনি ইন্তেকাল ফরমাইয়াছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। মৃত্যুকালে উনার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি ৩ ছেলে, ৫ মেয়ে, নাতি নাতনি আত্মীয় স্বজন সহ অসংখ্য ভক্ত গুনগ্রাহি রেখেগেছেন।

মরহুম শায়খ হাফেজ ক্বারী আমির হোসেন তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে প্রতিষ্ঠা করেছেন মৌলভীবাজার এর সম্পাসীতে সম্পাসী নেছারুল কোরআন হাফেজিয়া মাদরাসা এবং এতিমখানা। আবাসিক/অনাবাসিক মিলিয়ে প্রায় ৩০০ ছাত্র ছাত্রী সেখানে লেখাপড়া করছে। ৮০’র দশকে ইউকেতে এসে আবারো যোগ দেন দ্বীনের খেদমতে। কভেন্ট্রির প্রথম মসজিদ মসজিদ নুরুল ইসলাম জামে মসজিদ, ঈগল স্ট্রিট এ একটানা ইমামতি ও ইসলামিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যান একটানা ২৫ বছর। এটি ছিল তখন কভেন্ট্রির সকল মুসলিম কমিউনিটির একমাত্র মসজিদ। এরপর তিনি স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটি নিয়ে একটি বাংলাদেশী পরিচালনাধীন শাহজালাল জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শাহজালাল মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর তিনি সেখানে দীর্ঘ দিন ইমামতি ও ইসলামিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যান। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি হাজারো হাফেজ কারী তৈরি করে গেছেন।

মৌলভীবাজারের সম্পাশী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও হাজার ও হাফিজের উস্তাদ আল্লামা আমির হোসাইন চৌধুরী হাফেজ সাব এর মৃত্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র প্রেট্রন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাসনাত এম হোসেইন এমবিই, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র প্রেট্রন সিনিয়র সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরী, সংগঠন এর অন্যতম উপদেষ্টা ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মান্নান, গ্রেটার সিলেট এর সাবেক চেয়ারপার্সন বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী নুরুল ইসলাম মাহবুব ও সাবেক সেক্রেটারি ৭১এর বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম কয়সর,সাবেক সদস্য সচিব ড. মুজিবুর রহমান, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মকিস মনসুর, জেনারেল সেক্রেটারি এম আসরাফ মিয়া, ট্রেজারার মিসেস হেলেন ইসলাম, সংগঠন এর সাউথ ইস্ট রিজিওনাল কনভেনর হারুনুর রশিদ, কো- কনভেনর জামাল হোসেন ও সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও ১০টি রিজিওনাল ও ৮ টি শাখা কমিটির পক্ষ থেকে এক যুক্ত শোকবার্তায় গভীর শোক ও শোকাবহ পরিবারবর্গ এর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন সহ মহাণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেনো উনাকে জান্নাতবাসী করেন এই দোয়া করার জন্য সবার প্রতি বিনীতভাবে অনুরুধ জানিয়েছেন।

শোকবার্তায় আল্লামা হাফিজ আমির হোসেইন চৌধুরী (রহ.) তাঁর জীবনের সিংহভাগ সময় ব্যয় করেছেন কোরআনের খেদমতে। মৌলভীবাজারের সম্পাশীতে প্রতিষ্ঠিত তাঁর মাদরাসা থেকে গত কয়েক দশকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্ন করেছেন। তাঁর হাতে গড়া হাফেজে কোরআনগণ আজ দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে ইসলাম ও কোরআনের আলো ছড়াচ্ছেন বলে উল্লেখ করে মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ালর্ড ওয়াইড এর ফাউন্ডার্স চেয়ারম্যান ও গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট  মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, কিছু মানুষ চলে গেলেও তাঁদের স্মৃতি থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে।  সিলেট বিভাগের বিশিষ্ট আলেম, কোরআনে হাফিজ গড়ার রূপকার ও ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রিয় ব্যক্তিত্ব আল্লামা হাফিজ আমির হোসেইন চৌধুরী (রহ.) তিনি সদা হাস্যউজ্জল সহজ সরল সাদামাটা পরোপকারী মানবতাবাদী মানবিক মানুষ ছিলেন। সকলের আপদে বিপদে সবার আগে ছুটে চলতেন।

শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষায় আলোকিত করার পাশাপাশি এতিম ও অসহায় শিশুদের আশ্রয়ের ঠিকানা ছিলেন তিনি। শিক্ষকতা ও সমাজসেবার মাধ্যমে এলাকায় তিনি এক অসামান্য উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে মৌলভীবাজার তথা সিলেট বিভাগের যে ক্ষতি হল তাহা সহজে পুরণ  হবার নয়।  তাঁর প্রয়াণে সিলেট বিভাগ, মৌলভীবাজার জেলাসহ দেশ-বিদেশের ইসলামি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com