কমলগঞ্জে ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল কিশোরী ॥ আটক-৩

September 25, 2017,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কমলগঞ্জ উপজেলার কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল মোছা: শারমীন বেগম (১৩) নামের এক কিশোরী। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হয়। সোমবার বেলা আড়াইটায় বমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাদে উবাহাটা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাদে উবাহাটা গ্রামের আব্দুল বাছিতের মেয়ে মাদ্রাসা ছাত্রী মোছা: শারমীন বেগমের (১৩) সাথে একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে জহির আলম (২৮)-এর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। দুই পরিবারের সম্মতিক্রমেই সোমবার বিয়ের দিন ধার্য করে সকল প্রকার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। কনে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কিশোরী ছাত্রী বলে চাতুরীপনা করেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার বয়স ১৯ উল্লেখ করে একটি জন্ম নিবন্ধন কার্ড তৈরী করা হয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে আয়োজন বন্ধ করে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। কার্যালয়ে এনে বর, কনে, ও বর-কনের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদকালে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। পরে কিশোরীর বাবা আব্দুল বাছিত, বর জহির আলম ও তার বাবা আবুল হোসেনকে আটক করে কমলগঞ্জ থানা হাজতে প্রেরণ করেন।
কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ বন্ধ হওয়া ও তিনজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কিভাবে বয়স বাড়িয়ে জন্ম নিবন্ধন কার্য করা হলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলে জানান। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলেও জানান।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও এ ঘটনায় বরসহ তিনজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন। নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, চাতুরীপনা করে বয়স বাড়িয়ে জন্ম নিবন্ধন কার্ড তৈরীর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com