কমলগঞ্জে এক পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও অর্থ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

October 17, 2017,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সৈয়দ নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় হয়রানি, অর্থ দাবি এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির শমশেরনগরস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন শমশেরনগর ইউনিয়নের কেছুলুটি গ্রামের ব্যবসায়ী জামাল আহমদ খাঁন। তবে পুলিশ কর্মকর্তা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী জামাল আহমেদ খাঁন বলেন, আমি বিদেশ থেকে আসার পর শমশেরনগর বিমান বন্দর সড়কে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একটি নোহা লাইটেস গাড়ি দিয়ে ব্যবসা শুরু করি। এই গাড়ির সুবাদে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ওসি সৈয়দ নাসির উদ্দিন আমার গাড়ি ভাড়া নেন। এভাবে বিভিন্ন সময়ে গাড়ি ভাড়া নেয়ার সুবাদে পুলিশ ইনচার্জের সাথে আমার সম্পর্ক হয়। আমার বাড়িতেও ওসি সৈয়দ নাসির উদ্দিন দাওয়াত খেতে যান। সেই সুবাদে ওসি সৈয়দ নাসির উদ্দিন নিয়মিত আমার নোহা গাড়ি ভাড়া নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন। কয়েকদিনের ভাড়া জমার পর ভাড়া চাইতে গেলে তিনি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে উল্টো আমাকে টাকা দিতে হবে দাবি করে গাড়ি রিকুইজিশন, নেশাজাতীয় কিছু দিয়ে গাড়িসহ আমাকে কোর্টে চালান, নতুবা যেকোন পুলিশি বা ডাকাতি মামলায় জড়িত করবেন বলে হুমকি দেন। এক পর্যায়ে তিনি একটি মিথ্যা মামলায় (মামলা নং-১৩৭/২০১৭) আমাকে আসামী করে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি সাদা পোশাকে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে মামলার চার্জশীট থেকে নাম বাদ দিতে, ব্যবসা করতে আর গাড়ি রোডে চালাতে গেলে তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ ব্যাপারে সম্প্রতি ব্যবসায়ী জামাল আহমদ খাঁন সিলেটর রেঞ্জ এর ডিআইজিসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এসব ঘটনায় জামাল আহমদ খাঁন বাদি হয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ওসি সৈয়দ নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২২২/২০১৭)। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার পুলিশ ব্যুরো ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দেন। জামাল আহমদ বলেন, মামলা দায়েরের পর ওসি সৈয়দ নাসির উদ্দিন আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছেন। জামাল আহমদ খাঁন ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বার্থে পুলিশ কর্মকর্তার এহেন কার্যকলাপ এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আসামী করার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
তবে অভিযোগ বিষয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ওসি সৈয়দ নাসির উদ্দিন বলেন, জামালের সাথে আমার কোন দেখা নেই। তাকে কোন ধরনের হুমকি দেয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে জামাল একটি মামলার আসামী হিসাবে তাকে গ্রেফতার করার কারনেই এসব মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com