বড়লেখায় মহিলা আইনজীবি খুন ইমামের দেয়া তথ্যে মুঠোফোন উদ্ধার

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মহিলা আইনজীবি আবিদা সুলতানা (৩৫) হত্যা মামলার রিমান্ডে থাকা প্রধান আসামী মসজিদের ইমাম তানভীর আলমের দেয়া তথ্যে নিহতের ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। মামলার দ্বিতীয় আসামী তানভীরের ছোটভাই আফছার আলমকে গ্রেফতারে হন্যে হয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ অনেক দুর অগ্রসর হলেও তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে তা প্রকাশ করছে না। নির্মম এ হত্যকান্ডে নিহত আইনজীবি আবিদা সুলতানার বাবার বাড়ির গ্রামবাসী এখনও স্তব্ধ ও নির্বাক রয়েছেন। কোনভাবেই তারা এ মৃত্যু যেন মেনে নিতে পারছেন। তারা ঘটনার নেপথ্য নায়কদেরও খোঁজে বের করে দ্রুত বিচার সম্পন্নের মাধ্যমে হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবী করছেন। খুনি তানভীর আলম আদৌ মৌলভী কি-না তা যাচাই-বাচাইয়েরও দাবী উঠেছে পুলিশের প্রতি।
মামলার তদন্ত সংশি¬ষ্ট সুত্রে জানা গেছে, খুন হওয়া আইনজীবি আবিদা সুলতানার স্বামী শরিফুল ইসলাম বসু মিয়ার হত্যা মামলার ৩ আসামীর রিমান্ড শুরু হয় গত মঙ্গলবার থেকে। ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা প্রধান আসামী স্থানীয় মসজিদের ইমাম তানভীর আলম (৩৪) প্রথম দিনেই পুলিশের নিকট গুরুত্বপুর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এ মুহুর্তে তা প্রকাশ করছে না। তার দেয়া তথ্যে তাকে সাথে নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরুনা মাদ্রাসা এলাকার একটি বাসায় রক্ষিত তানভীরের ব্যাগ থেকে পুলিশ নিহত আইনজীবির ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করেছে। এ বাসা থেকেই সোমবার ২৭ মে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুছ ছালেকের নেতৃত্বে পুলিশ সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে মসজিদের ইমাম তানভীরকে আটক করে। এতেকাফের কথা বলে আগেই সে এ বাসায় উঠেছিল।
২৬ মে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যের যেকোন সময় বড়লেখায় পৈত্রিক বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য ও জজকোর্টের নিয়মিত আইনজীবি অ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানা। তিনি উপজেলার কাঠালতলী মাধবগুল গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল কাইয়ুমের বড় মেয়ে। হত্যাকান্ডের পরই ওই বাসার অপরাংশের ভাড়াটিয়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম তানভীর আলম (৩৪) বাসায় তালা ঝুলিয়ে স্ত্রী ও মাকে শ্বশুড়বাড়ি পাঠিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে শ্রীমঙ্গল থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ স্ত্রী হালিমা সাদিয়া (২৮) ও মা নেহার বেগমকে (৫৫) আটক করেছিল।
বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক জানান, ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা প্রধান আসামী তানভীর রিমান্ডের প্রথম দিনেই গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যে খুন হওয়া আইনজীবির মুঠোফোন উদ্ধার হয়। তবে এখনও হত্যাকান্ডের আসল কারণ জানা যায়নি। রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন : চাঞ্চল্যকর অ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার ওসি (তদন্ত) মো. জসিম উদ্দিন বুধবার দুপুর ১২টায় হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল বাসা পরিদর্শন করেছেন। মামলার প্রধান আসামী তানভীর আলম যে মসজিদে ইমামতি করতেন সে মসজিদ এবং নিহতের পৈত্রিক পুরাতন বাড়ি ঘুরে দেখেন। এছাড়াও তিনি ঘটনাস্থলের পার্শবর্তী বাসিন্দাদের সাথেও কথা বলেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে তাৎক্ষনিক উত্তেজনা বশত ইমাম তানভীর আলম হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে। তবে হত্যার মোটিভ উদঘাটনে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইমাম তানভির আলমের পরিচয় : সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার ছিল¬ারকান্দি গ্রামের ময়নুল ইসলামের ছেলে তানভীর আলম। স্থায়ী ঠিকানা সিলেটের জকিগঞ্জ হলেও কয়েক বছর ধরে সে বড়লেখা উপজেলার চরকোনা গ্রামে বসবাস করছে। মাত্র ৩ মাস আগে নিহত অ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানার পিতার নির্মিত পারিবারিক মসজিদের ইমাম হিসেবে চাকরি নেয়। এর আগে বড়লেখার বরইতলি নামক এলাকায় একটি মসজিদে ইমামতি করলেও মসজিদ কমিটি সেখান থেকে বের করে দেয়। নতুন কর্মস্থল মসজিদে যোগদানের পর স্ত্রী, মা ও ছোটভাইকে নিয়ে নিহত আবিদা সুলতানার পৈত্রিক বাসায় নামমাত্র ভাড়ায় বসবাস করত।



মন্তব্য করুন