সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে লাঞ্চিত করার জের বড়লেখায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ-সড়ক অবরোধ

June 20, 2019,

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিনকে শারীরিক লাঞ্চিতের ঘটনায় উপজেলার উত্তরাঞ্চলের ৪ ইউনিয়নের জনসাধারণ ২০ জুন বৃহস্পতিবার সকালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দরের বাড়ি ঘেরাওয়ের চেষ্ঠা চালায়। এসময় বিক্ষুব্দ লোকজনকে প্রতিরোধ করতে তার বাড়িতেও সহস্রাধিক কর্মী-সমর্থক অবস্থান নেন। তবে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে বিক্ষুব্দরা পৌরশহেরর উত্তর চৌমুহনীতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের পর ফিরে যায়। এসময় তারা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের গ্রেফতারের দাবী জানায়। বিক্ষুব্দরা সুন্দরের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা ছিল। এ ঘটনায় শহরে থমতমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরের উত্তর চৌমুহনী এলাকায় সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দরের সাথে দাসেরবাজার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিনের দেখা হয়। তিনি কোশল বিনিময় করতে চাইলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর তা না করে শারীরিকভাবে তাকে লাঞ্চিত করেন। ঘটনাটি দাসেরবাজার ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনসাধারনের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উপজেলার দাসেরবাজার, বর্নি, তালিমপুর ও নিজ বাহাদুরপুর ইউপির সহস্রাধিক জনসাধারণ বৃহস্পতিবার সকালে বড়লেখা-চান্দগ্রাম সড়কের গোয়াল্টাবাজারে জড় হতে তাকে। সকাল সোয়া দশটায় তারা দেশিয় অস্ত্রসহ বিক্ষোভ মিছিল সহকারে সুন্দরের বাড়ি ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে শহরের দিকে অগ্রসর হয়। এসময় সড়কে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এগারোটার দিকে বিক্ষুব্দরা শহরের উত্তর চৌমুহনী অতিক্রম কালে পুলিশ তাদেরকে ব্যরিকেট দেয়। উপজেলা প্রশাসন, পৌরমেয়র ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে উত্তেজিত জনতা পিছনে ফিরে রেলক্রসিংয়ের ওপর প্রায় ১ ঘন্টা অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির গায়ে হাত তোলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত ঘটনাকারী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দরকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখেন দাসেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন, তালিমপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুনাম উদ্দিন, আ’লীগ নেতা উপাধ্যক্ষ একেএম হেলাল উদ্দিন, হাজী মুছব্বির আলী, নজব উদ্দিন, ফয়সল আহমদ, লোকমান আহমদ, খায়রুল আলম, ইসলাম উদ্দিন প্রমূখ।

এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক, পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী।

ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান জানান, বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ভুক্তভোগী ইউপি চেয়ারম্যানের এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদসহ তিনি বৈঠক করেছেন। আশা করছেন তা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর জানান, মাহতাব উদ্দিনের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। গায়ে হাত তোলার মত কোন ঘটনাই ঘটেনি। অনাকাংখিত ঘটনাটি নিষ্পত্তির জন্য বুধবার রাতেও কয়েজন সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি আলাপ আলোচনা করেছেন। এরমধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে আমার বাড়ির দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে বিশেষ কোন মহল উঠেপড়ে লেগেছে।

ওসি ইয়াছিনুল হক জানান, উত্তেজিত লোকজন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে পৌছার প্রায় ১ কিলোমিটার পিছনে পুলিশ তাদেরকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ফিরিয়ে দেয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোন অবনতি ঘটেনি। পরিস্থিতি সম্পুর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রনে। সড়ক অবরোধের পর ৪ ইউনিয়নের মুরব্বিদের নিয়ে বসা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহোদয় বৈঠকে ছিলেন। মন্ত্রী মহোদয়ের সাথেও আলাপ হয়েছে। তিনি এলাকায় আসলে বিষয়টি সমাজিকভাবে সমাধান হবে। এতে সকলে একমত হন।’ পৌরশহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনও অব্যাহত আছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com