রাজনগরে আকস্মিক বন্যায় ১১ গ্রামের প্লাবিত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

শংকর দুলাল দেব॥ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে আকস্মিক বন্যায় ১১ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শনিবার ১৩ জুলাই দিবাগত ভোর রাতে কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের প্রতাবি এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্রাথমিক ভাবে এসব গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অব্যাহত বারিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এসব নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে নতুন ভাঙ্গনের আশংকা দেখা দিয়েছে। ধলাই থেকে ধেয়ে আসা পানিতে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা করছেন দুর্গত এলাকার লোকজন।
বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরের মনু, কুশিয়ারা ও কমলগঞ্জের ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজনগর পার্শ্ববর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের প্রতাবি নামক স্থানে গত ১৩ জুলাই শনিবার দিবাগত ভোররাতে ধলাই নদী প্রতিরক্ষা বাঁেধ প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ ভাংগনের সৃষ্টি হলে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের প্রাথমিক ভাবে ১১টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। প্লাবিত গ্রাম গুলো হলো- শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, জালালপুর, ইসলামপুর ও খাসপ্রেমনগর, গোবিন্দপুর, হাটিকরাইয়া, আদমপুর, মশাজান, তেঘরি। প্লাবিত এসব এলাকায় খাবার পানি, গোখাদ্য সহ নানান সমস্যার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ইসলামপুর গ্রামের গিয়াস মিয়া (ইউপি মেম্বার), শ্যামেরকোনা গ্রামের মামুনুর রশীদ (ইউপি মেম্বার) জানান, গত শনিবার দিবাগত ভোর রাতে কমলগঞ্জের প্রতাবি নামক স্থানে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে প্রায় ১৫০ ফুট ভাঙ্গন দেখা দিলে রাজনগরের ১১ টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে এলাকার ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। দুর্গত শতাধিক পরিবারের লোকজন বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী আক্তার জানান, এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি এবং দুর্গত এলাকা পরিদর্শণ করেছি। ১১ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তা মোকাবেলার জন্য যথাযত প্রস্তুতি রয়েছে। দুর্গতদের স্বার্থে সব ব্যবস্থা করা হবে।



মন্তব্য করুন