আসামে এনআরসি অর্ন্তভুক্তিতে ব্যর্থ বাংলাদেশী যুবক এখন ভারতীয় ডিটেনশন সেন্টারে

November 19, 2019,

আব্দুর রব, আসাম (ভারত) থেকে ফিরে॥ ভারতের আসামে এনআরসিতে নাম অর্ন্তভুক্তির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখার যুবক কয়েছ উদ্দিন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকালে বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে। অবশেষে তার টাই হয়েছে করিমগঞ্জ ডিটেনশন সেন্টারে। সে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির বোবারথল গ্রামের ফৈয়াজ উদ্দিনের ছেলে। প্রায় ৩ মাস পুর্বে সে চোরাই পথে ভারতে প্রবেশ করেছিল।
জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোবারথল গ্রামের ফৈয়াজ উদ্দিনের ছেলে কয়েছ আহমদ দালালের মাধ্যমে প্রায় ৩ মাস পূর্বে অবৈভাবে সাতকরাগুল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ভারতে প্রবেশের পর আসামের এনআরসিতে অর্ন্তভুক্ত হতে সে লালারমুখ এলাকার এক মেয়েকে বিয়ে করেছিল। ভারতীয় মেয়েকে বিয়ে করেই এনআরসিতে অর্ন্তভুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। এনআরসি তালিকায় নিজের শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের মা-বাবা পরিচয় দিয়ে নাম উঠানোর চেষ্টা চালায়। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তার সব চেষ্টাই বিফলে যায়। চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর শ্বশুর, শাশুড়ি ও নিজের স্ত্রীর নাম থাকলেও তার নাম আর অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। সবদিক থেকে চেষ্টা চালিয়েও বিফল হওয়ায় অবশেষে সে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বিধি বাম। বুধবার ১৪ নভেম্বর সে দেশে ফেরার প্রচেষ্টা চালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। দেশে ফেরার পথে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে সে আটক হয়।
করিমগঞ্জ জেলা পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, গরু পাচারকারীদের সাথে বাংলাদেশী নাগরিক কয়েছ উদ্দিন ভারতে প্রবেশ করেছিল। ৩ মাস অবস্থান করে অভিনব কৌশলে এনআরসিতে অর্ন্তভুক্ত হতে না পেরে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা চালায়। সীমান্ত অতিক্রমকালে বিএসএফ তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। সে ভারতীয় পুলিশের নিকট চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তী দিয়েছে। সে জানায় সাতকরাগুল সীমান্ত দিয়ে গরু পাচারকারীদের সাথে সে ভারতে প্রবেশ করে। প্রায় প্রতিদিন এ চোরাই পথ দিয়ে বাংলাদেশে গরু-মহিষ পাচার হচ্ছে। ওই এলাকার একটি কালভার্টের নিচে দিয়ে গরু পাচার কাজ চলছে। এলাকাটিতে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় পাচারকারীরা এ কালভার্টকে নিজেদের আসা-যাওয়ার চোরাই পথ হিসেবে ব্যবহার করেছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আদালত বাংলাদেশী নাগরিক কয়েছ উদ্দিনকে ডিটেনশন সেন্টারে প্রেরণ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com