বড়লেখায় শিশু সহ ৩০ জনকে আহত করার দায়ে বানরের মৃত্যুদন্ড!

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় লোকালয়ে তান্ডব চালিয়ে এক শিশুসহ ৩০ জনকে আহত করার অভিযোগে এক বন্যবানরের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে।
গুরুত্বর আহতকারী শিশুসহ ৩০ জনকে আহতকারী বন্যবানরকে ধরতে ঘুমের ওষুধ মিশানো ভাত খাইয়ে তাকে মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর সকালে ধরা করা হয়। ওইদিন বিকেলে বানরকে ধরার পর উত্তেজিত জনতা সালিশ বসিয়ে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে।
অভিযোগ উঠেছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন ইতিপূর্বে এলাকায় গিয়ে ভুক্তভোগী লোকজনকে বানরটিকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেন। যদিও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী যে কোন বন্যপ্রাণী হত্যা দন্ডনীয় অপরাধ।
জানা গেছে, পাথারিয়া পাহাড়ের দলছুট একটি বন্যবানর গত ১ নভেম্বর উপজেলার কাঠালতলী এলাকায় লোকালয়ে প্রবেশ করে। বানরটি কাঠালতলী, রুকনপুর, বড়খলা, দক্ষিণ মুছেগুল, উত্তরভাগসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে দাপিয়ে নানা তান্ডব চালায়। সুযোগ বুঝে সে নিরীহ পথচারীসহ শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে থাকে। ওই বন্য বানরের হামলায় বড়খলা গ্রামের শিশু ও মহিলাসহ অন্তত ৩০ ব্যক্তি আহত হন।
বানরের উপদ্রপে অতিষ্ট লোকজন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের শরনাপন্ন হলে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিনকে খবর দেন। কয়েকদিন পূর্বে রেঞ্জ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করে বনাঞ্চলে প্রত্যাবর্তনের কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বানরটিকে মেরে ফেলার জন্য ভুক্তভোগী লোকজনকে নির্দেশ দিয়ে যান। আর তখন থেকেই হতভাগা বানরটিকে মেরে ফেলার জন্য ৬-৭ গ্রামের বাসিন্দারা ধাওয়া শুরু করেন। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে ভাতের সাথে অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নেশাগ্রস্থ করে তাকে বাগে আনেন। উত্তেজিত জনতা বিকেল ৩টার দিকে একটি ধান ক্ষেতের চুতুর্দিক ঘেরাও দিয়ে লাটিসোটার আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় আটক করতে সক্ষম হন। পরে কাঠালতলী বাজার সংলগ্ন স্থানে শত শত উৎসব মূখর জনতা আদালত বসিয়ে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেন। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন বানরের মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি টিলায় কবরস্থ করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন জানান, প্রায় ২০-২৫ দিন ধরে ৬-৭ গ্রামের লোকজন ওই বন্যবানরের আক্রমনে আতংকিত ছিলেন। এর হামলায় আহত হয়েছেন শিশু, মহিলাসহ ৩০ ব্যক্তি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগে খবর দিলে রেঞ্জ কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন কয়েকদিন আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, লোকালয় থেকে তাড়ানোর ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি লোকজনকে বানরটিকে মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়ে যান। তার উৎসাহে ভুক্তভোগী লোকজন মঙ্গলবার বিকেলে নির্মমভাবে বানরটিকে হত্যার পর মৃতদেহ রাস্তায় ফেলে দেয়। খবর পেয়ে তিনি দুর্গন্ধে পরিবেশের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য একটি টিলায় মৃতদেহ মাটি চাপা দিয়েছেন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন জানান, বানরের উপদ্রপের খবর পেয়ে ইতিপূর্বে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বানর ধরার বা তাড়ানোর সরকারী কোন সাপোর্ট না থাকায় তিনি সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারেননি।



মন্তব্য করুন