বড়লেখায় বহুল আলোচিত সাইদুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ

July 9, 2020,

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখায় পলিথিন আটকের জের ধরে দুইপক্ষের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকাশ্যে গুলি করার সহ প্রতিপক্ষের উপর হামলার অভিযোগ থানায় দায়ের করা দুটি মামলার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ৯ জূলাই সকালে বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলেও সময় মত আবেদন না করে রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদনের শুনানি না করে তাকে মৌলভীবাজার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ৮ জুলাই রাত সাড়ে নয়টার দিকে পুলিশ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সাইদুলের বিরুদ্ধে হুন্ডি, মাদক ব্যবসা সহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। সে বড়লেখা পৌর শহরের আইলাপুর গ্রামের মৃত আব্দূল খালিকের পুত্র। থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পলিথিন আটকের জের ধরে ২ জুলাই সকালে বড়লেখা পৌরশহরের উত্তর বাজার এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শামীম আহমদ বাদী হয়ে ১৮ জনের ও জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ১৫ জনের নামোল্লেখ করে থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। দুটি মামলায় বাদীরা ঘটনার সময় সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ৩ রাউন্ড গুলির অভিযোগ এনে শাহজালাল শপিং সিটির মালিক সাইদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরই পুলিশ ৩জনকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে সাইদুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। তাঁকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়। বুধবার ৮ জুলাই পুলিশ খবর পায় আসামি সাইদুল ইসলাম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় অবস্থান করেছেন। খবর পেয়ে বুধবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) গোলাম দস্তগির ও বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। জানা গেছে, বুধবার ১ জুলাই স্থানীয় প্রশাসন পৌর শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মজুদ করা প্রায় ৭০ মণ নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করে। এর মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামের পারিবারিক মালিকানধীন রেলওয়ে স্টেশন রোডস্থ শাহজালাল শপিং সিটি থেকেও পলিথিন উদ্ধার করে প্রশাসন। এ ঘটনার পর থেকে আসামিরা শামীম আহমদকে (মামলার বাদী) সন্দেহ করছিলেন। তাদের ধারণা শামীম আহমদ পুলিশকে তথ্য দিয়ে পলিথিনগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন। এ আক্রোশে গত ০২ জুলাই সকালে শহরের উত্তর বাজার এলাকায় শামীম আহমদকে কুপিয়ে জখম করে রাস্তায় ফেলে যায়। এতে শামীম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে থাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শামীম আহমদের উপর হামলার খবর পেয়ে তার ভাই পৌর যুবলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে বেলা ১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে জসিম উদ্দিনসহ প্রায় ১২জন আহত হন। জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আহত অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সময় সাইদুল তার আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পর পর তিন রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক জানান , সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় দায়ের করা দুটি মামলার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করলেও আদালত শুনানি না করে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com