তিনশ টাকা না হোক জীবনমানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটা মজুরী পেলে কাজে যোগ দিবে শ্রমিকরা

August 18, 2022,

বিকুল চক্রবর্তী॥ তিনশ টাক না হোক জীবনমানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটা মজুরী পেলে কাজে যোগ দিবে শ্রমিকরা। ঢাকাস্থ শ্রম অধিদপ্তরে বৈঠকে আলোচনা ও প্রস্তাবের বিষয়ে দেশের চা বাগানগুলোর পঞ্চায়েত প্রধানদের নিয়ে আয়োজিত ভ্যালী কমিটির সভাশেষে এ কথা বলেন শ্রমিক নেতারা।
ঢাকায় শ্রম দপ্তরে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে জানাতে এবং এ বিষয়ে সিন্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশের প্রত্যেক ভ্যালিতেই বৈঠক করা হয়েছে বলে জানান চা শ্রমিক নেতা পরেশ কালিন্দি। তিনি জানান, চা শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশীয় চা সংসদ ও শ্রম অধিদপ্তরের ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকেও আসেনি কোন সিন্ধান্ত। ফলে কর্মবিরতি অভ্যাহত থাকছে। তবে এ এবিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধানদের সাথে আলোচনাক্রমে তারা কর্মবিরতি অভ্যাহত রাখার সিন্ধান্তে অটল থাকেন। তিনি জানান, শ্রম দপ্তরের বৈঠকে ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা মজুরী দিতে রাজী হন মালিক পক্ষ। এটি চা শ্রমিকদের জীবনমনের সাথে অসামঞ্জস্য পূর্ণ।
সভা শেষে শ্রমিকনেতারা বিজয় হাজরা বলেন, “বাগানে পাতা নষ্ট হচ্ছে। এটি নষ্ট হলে মালিক পক্ষের তেমন কিছু যায় আসে না। কিন্তু শ্রমিকরা বঞ্চিত হবে হাজিরা থেকে। আমরা চাইনা এভাবে পাতা নষ্ট হোক। শ্রমিকরা কষ্ট পাক। তাই মালিকদের প্রতি আহবান তিনশত টাকা না হোক জীবনমানের সাথে কিছুটা সামঞ্জস্য রেখে মানসম্মত একটা মজুরী ঘোষনা দিলে আমরা কাজে যোগ দিবো। ”
বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বালিশিরা ভ্যালির এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা পংকজ কন্দ, শিউধন কুর্মী, পরেশ কালিন্দি ও বালিশরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা ও এই ভ্যালীর নিয়ন্ত্রীত প্রত্যেকটি চা বাগানের পঞ্চায়েত প্রধানরা।
এদিকে চা বাগানে কর্মবিরতিতে প্রতিদিন অন্তত ১০কোটি টাকার চা পাতা নষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই চা শিল্প প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার লোকসানে পড়েছে। এভাবে আন্দোলন অভ্যাহত থাকলে লোকসানের পরিমান দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হবে বলে জানান, শ্রীগোবিন্দ পুর চা বাগানের মালিক মহসীন মিয়া মধু। তিনি জানান, প্রতিদিন অন্তত ১০ থকে ১২ কোটি টাকার পাতা এখন নষ্ট হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com