যে বাজেট মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়, সেই বাজেটকে অনেকে চানাচুর ও গণবিরোধী বলে-শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী

June 17, 2026,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যে বাজেট মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়, সেই বাজেটকে কেউ কেউ চানাচুরের বাজেট ও গণবিরোধী বাজেট বলে প্রচার করছে। জনগণের বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে বিভ্রান্ত করতে চায়, তারা সংসদের ভেতরে হোক কিংবা বাইরে হোক, তাদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।

বুধবার ১৭ জুন শ্রীমঙ্গল শহরের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় ধাপের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি অনুমোদিত জাতীয় বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বাজেটের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্যের পরিবর্তন।

তিনি বলেন, আমি সিলেটের মাটি থেকে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলাম। হবিগঞ্জের জনসভায় চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হলো।

নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, মাতৃভূমি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীদের স্বাবলম্বী না করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নির্বাচনের পর এক মাস না যেতেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে বিদেশে পাচার করেছিল একটি দল। আমরা জনগণের টাকা পাচার হতে দেব না। জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের কল্যাণমূলক কাজ করা হবে। যারা বিদেশে অর্থ পাচার করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দল এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশ্বাস করে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড, চা-শ্রমিক পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখা হবে।

আগের সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন না করে অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। কিন্তু আমরা সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছি।

বক্তব্যে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। আমিও বলতে চাই, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা।

তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ যুক্ত করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দির ও গির্জার ধর্মীয় প্রধান এবং পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।

৩১০ জন উপকারভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫ জন এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে পাইলট প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়।

ফ্যামিলি কার্ডধারীরা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই উপকারভোগীদের হিসাবে ভাতার অর্থ পৌঁছে যায়।

মির্জাপুর ইউনিয়নের উপকারভোগী রেসনা বেগম, নাসিমা বেগম ও লাবলী আক্তার বলেন, টেলিভিশন ও মানুষের মুখে ফ্যামিলি কার্ডের কথা শুনেছি। কিন্তু এত দ্রুত আমাদের মতো গরিব মানুষের হাতে এই কার্ড পৌঁছে যাবে, তা ভাবিনি। প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পেলে সংসার চালাতে অনেক উপকার হবে। আমরা খুবই আনন্দিত। তারা এ কর্মসূচির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ১৫৫ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এছাড়া বিশেষ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড এবং জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সহায়তা কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হয়।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ মালেক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ডঃ মোঃ আবু ইউসুফ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক,  মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, নাসির উদ্দিন আহমেদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com