কুলাউড়ায় মেয়র পদে উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের প্রার্থীতা ঘোষণা, বিভ্রান্তিতে নেতাকর্মীরা

July 30, 2026,

মাহফুজ শাকিল : কুলাউড়ায় আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের সময় এখনো ঘোষনা হয়নি। তার আগেই মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করার আগাম প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা। তাদের মধ্যে একজন হলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক ৫ বারের কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন বাচ্চু এবং অন্যজন হলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান সজল। দলের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের শীর্ষ দুই নেতার প্রার্থীতা ঘোষনায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কারো কারো মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ বলছেন এক দলের দুইজন প্রার্থী যদি একত্রে মেয়র পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেন তাহলে দলের লোকজন কার পক্ষে কাজ করবেন। তবে দলের হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন নেতাকর্মীরা।

গত ২৮ জুলাই রাতে কুলাউড়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন জয়নাল আবেদীন বাচ্চু। এর আগে গত ২৭ জুলাই রাতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজলও মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। এক দিনের ব্যবধানে একই দলের শীর্ষ পদের দুই নেতার প্রার্থীতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকায় তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাদের পৃথক পৃথক প্রার্থীতা ঘোষণার সময় দলের কোন নেতাকর্মী সঙ্গে ছিলেন না। এ দুই প্রার্থী ছাড়া আর কোনো প্রার্থী মেয়র পদে এখন পর্যন্ত প্রার্থীতা ঘোষণা করেননি। তবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আরো দুই একজন হেভিওয়েট প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গেছে।

কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র জয়নাল আবেদীন বাচ্চু প্রার্থীতা ঘোষণাকালে লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজলের প্রার্থীতা ঘোষণা দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করবে। আমি পৌরসভার জন্মলগ্ন থেকে (৫ বার) কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে আসছি। ৩ বার প্যানেল মেয়র ছিলাম। দলমত সর্বস্তরের জনগণের ভালোবাসা আমাকে শক্তি, প্রেরণা জুগিয়েছে। তাই আসন্ন কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে আমি মেয়র পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করলাম। পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জয়নাল আবেদীন বাচ্চু আরো বলেন, পৌর এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেন ও কালভার্টর উন্নয়ন, যানজট মুক্ত শহর গঠন এবং কুলাউড়াকে একটি ‘মডেল পৌরসভা’ হিসেবে দাঁড় করাতেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ‘উনি (বদরুজ্জামান সজল) কোন নির্বাচন করবেন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারবেন না। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে বদরুজ্জামান সজল ৫ আগস্ট ২০২৪-এরপর তিনি একেক সময় একেক পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। একটা লোক কয়টা নির্বাচনের ঘোষণা দেন? সর্বপ্রথম বিলবোর্ড টাঙিয়ে সংসদ নির্বাচন (বিগত ত্রয়োদশ) করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে উনার বাসায় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। গত সোমবার রাত ১০টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদন্ধিতার ঘোষণা দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে ময়দানে সক্রিয় থেকে দলের জন্য কাজ করে দলকে সুসংগঠিত করেছি। দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে মেয়র পদে প্রার্থীতা ঘোষনা দিয়ে সুনির্দিষ্ট পদে থেকে বৃহৎ পরিসরে জনগণের সেবা করাই আমার লক্ষ্য। এখানে প্রার্থীতা ঘোষণা অন্যায় কিছু নয়। এই ঘোষনার পর দেশ-বিদেশ থেকে দলের নেতাকর্মীসহ অনেক শোভাকাঙ্খীরা আমাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন। দল যাকে মনোনয়ন বা সমর্থন দেবে সেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে থাকবে সময়ই সেটা বলে দেবে। আর এমপি পদে প্রার্থীতার আগ্রহ দেখিয়েছিলাম, মনোনয়ন পাইনি। উপজেলা নির্বাচন কবে হবে সেটা নিশ্চিত নয়। পৌরসভায় আগে হবে তাই সেখানে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছি। তিনি আরো বলেন, আমাকে উদ্দেশ্যে করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত। এটা নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাইনা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com