শ্রীমঙ্গলে স’মিল শ্রমিক সংঘের সভাস সরকার ঘোষিত মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার॥ স’মিল শিল্প সেক্টরের জন্য সরকার গঠিত নি¤œতম মজুরি বোর্ড ঘোষিত মজুরি এবং নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদান ও ৮ ঘন্টা কর্মদিবস নির্ধারণসহ অবিলম্বে শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে স’মিল শ্রমিক সংঘ।
১৯ আগষ্ট সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘ রেজিঃ নং চট্টঃ ২৮৬৪ এর উদ্যোগে ভানুগাছ রোড এলাকায় অনুষ্টিত সাধারণ সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়। উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সভাপতি মোঃ শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন এর সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস। স’মিল শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্টিত সাধারণ সভায় বক্তব্য কমলগঞ্জ উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘ এর সভাপতি মোঃ মোস্তাক মিয়া, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আউলীয়া, দপ্তর সম্পাদক মোঃ রিপন মিয়া, কোষাধ্যক্ষ মোঃ কামাল হোসেন প্রমূখ। সভায় বক্তারা বলেন, গত ৬ জুন/২২ সরকারের নি¤œতম মজুরি বোর্ড স’মিল শিল্প সেক্টরেরর শ্রমিকদের জন্য নি¤œতম মজুরি হার গেজেট আকারে প্রকাশ করেন। সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি অনুযায়ী পৌরসভার ভিতরে এবং পৌরসভা বাইরের শ্রমিকদের যথাক্রমে স’মিল মিস্ত্রির মাসিক মজুরি ২৭,৮৫০ টাকা ( দৈনিক ১০৪৫ টাকা) ও মাসিক মোট মজুরি ২৭,০০৫ টাকা ( দৈনিক ১০৪০ টাকা); সহকারি মিস্ত্রির মাসিক মোট মজুরি ২১,৩৫০ টাকা ( দৈনিক ৮২৫ টাকা) ও মাসিক মোট মজুরি ২০,৭০০ টাকা ( দৈনিক ৮০০ টাকা); টানোয়ার মাসিক মোট মজুরি ২০,২০০ টাকা( দৈনিক ৭৬০ টাকা) ও মাসিক মোট মজুরি ১৯,০২০ টাকা( দৈনিক ৭৩০ টাকা); হেলপার ও অন্যান শ্রমিকদের মাসিক মোট মজুরি ১৯,০০০ টাকা( দৈনিক ৭৩০ টাকা) ও মাসিক মোট মজুরি ১৭,৯০০ টাকা( দৈনিক ৬৯০ টাকা); এবং শিক্ষানবিস শ্রমিকদের মাসিক মোট মজুরি ১১,০০০ টাকা (দৈনিক ৪৫০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও গেজেটে শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরির সাথে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) কথা বলা হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন বর্তমান দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির বাজারে স’মিল শ্রমিকরা দিশেহারা। শ্রমিকদের এই দূর্দশার সময়ে সরকারের নি¤œতম মজুরি বোর্ড ঘোষিত মজুরির চেয়ে কম মজুরির শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তদোপরি প্রতিনিয়ত স’মিল শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের জন্য কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স’মিলে কর্মরত শ্রমিকদের অনেকেই দূর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকেন। এতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অঙ্গহানি হয়, কোন কোন ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। কাজ করতে যেয়ে এ সমস্ত দূর্ঘটনার শিকার শ্রমিকের উপযুক্ত চিকিৎসা যেমন মালিক করে না, তেমননি অঙ্গহানি ও মৃত্যুর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপুরণও মূলত দেওয়া হয় না।



মন্তব্য করুন