অনেকদিন পর মাছ খাবে অঞ্জনা ভূইয়ার পরিবার

August 31, 2022,

বিকুল চক্রবর্তী॥ অনেকদিন পর আজ মাছ খাবে শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগানের অঞ্জনা ভূইয়ার পরিবার। বুধবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগানের তলবহাটে দেখা হয় অঞ্জনা ভুইয়ার সাথে। তিনি জানান, তাঁর পরিবারে ৬জন সদস্যের জন্য ২০ টাকার মলা/মকা মাছ কিনেছেন। অঞ্জনা ভূইয়া জানান, তাদের পরিবারে একটাই কাজ তার জামাতা গঙ্গা ভূইয়ার, তাও অস্থায়ী। তাই তার মজুরি কম। এর ভিতরেই তাদের চলতে হয়। তিনি বলেন, ২০ টাকার মাছ কিনেছেন এতেই তাদের চলবে। ছোটদের মাছ দেয়া হবে বড়দের মাছের গন্ধ পেলেই চলবে।
শুধু অঞ্জনা নয় অনেকদিন পর মাছ খাওয়া হবে একই বাগানের চা শ্রমিক ছমিরুন বিবির পরিবারের। ছমিরুন বিবি বলেন, আজ মজুরি মিলেছে। পরিবারের জন্য তেলাফিয়া মাছ, আর বাচ্চাদেরর জন্য মিঠাই কিনেছেন। মেজাজ বেশ ফুরফুরা। তিনি বলেন, নাতির জন্য মিঠাই কিনেছি। তাই ভালো লাগছে। এই কয়দিন কিযে কষ্টে কেটেছে তা বলে বুঝানো যাবেনা।
শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি নুর মোহাম্মদ বলেন, টানা কর্মবিরতির পর পূর্বের মজুরিতেই বুধবার বিকেলে প্রথম তলব (বেতন/মজুরি) পেয়েছেন চা শ্রমিকরা। সাথে পেয়েছেন ৬শ অগ্রীম। আগামী সাপ্তাহে পাবেন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মজুরি। রেশনও দেয়া হবে কাল। তবে বাকীদারের খাতায় টাকা দিয়ে দেয়ায় এ সাপ্তাহেও ভালো বাজার করতে পারেননি অনেকে। চলতে হবে কষ্ট করে।
এ ব্যাপারে ভাড়াউড়া বাগানের বাঁশমতি তন্তবাই বলেন, তিনশত ষাট টাকা মজুরি আর অগ্রীম ৬শ টাকা পেয়েছেন। বাকীই আছে হাজার টাকা। এই মধ্যেই টানপুুরণে চলতে হবে।
এ ব্যপারে শ্রীমঙ্গল ফুলছড়া চা বাগানের মঞ্জু তন্তবাই জানান, বাগানে তার একার কাজ। পরিবারে ৪ সন্তান বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী মিলিয়ে ৭জন। তিনি বাগানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করনে। এখন চকিদারের কাজ করছেন। এই কাজ করে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ কম। তিনি জানান, এই সাপ্তাহে তিনি হাজরি পেয়েছেন ২৩০ টাকা। এক হাজার টাকা অগ্রীম দেয়া হচ্ছিল অনেকে না নেয়ায় তারও নেয়া হয়নি। এখন আগামী সাপ্তাহ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট ব্রাঞ্চ চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী জানান, রবি থেকে শনিবার পর্যন্ত ৭ দিনের মজুরি দেয়া হয় প্রতি বুধবারে। সাথে তাদের জীবন নির্বাহনের স্বার্থে প্রত্যেক শ্রমিককেই তাদের চাহিদা অনুযায়ী অগ্রীম ৬০০ টাকা করে দেয়া হয়। তিনি জানান, বাগানগুলোর পঞ্চায়েত প্রধানদের সাথে আলোচনা করে কোন বাগানে এক হাজার টাকা, কোন বাগানে আটশত টাকা, কোন বাগানে ছয়শত টাকা করে অগ্রীম দেয়া হয়। যা পরবর্তী তলব (সাপ্তাহিক প্রেমেন্ট) থেকে দুশ টাকা করে কেটে রাখা হবে।
এ ব্যাপারে ফিনলে টি এর সিইও ও বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিনিয়র সদস্য তাহসিন আহমদ চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের অগ্রীম মজুরি আমরা দিচ্ছি এ সাপ্তাহে। সাথে রেশনও দেয়া হবে। ইতিমধ্যেই প্রত্যেক চা বাগান ব্যবস্থাপনা পরিষদকে তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, কাজ না করলে রেশনও দেয়ার নিয়ম নেই। কিন্তুগত সাপ্তাহের পুরো রেশন শ্রমিকদের দেয়ার জন্যও সব বাগানে বলে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রেশনের আটা সংগ্রহ করাও হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দেয়া হবে সে রেশন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা জানান, পঞ্চায়েত প্রধানরা কর্মবিরতিকালীন মজুরি পাওয়ার জন্য মৌকিকভাবে জানিয়েছেন মালিক পক্ষকে। আগামী চুক্তির বেঠকে চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ বিষটি বিবেচনার জন্য বাংলাদেশীয় চা সংসদকে অনুরোধ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী গত শনিবার ঘোষনা দেয়ার পর গত রবিবার থেকে ১৭০ টাকা করে মজুরি পাবেন শ্রমিকরা। যা দেয়া হবে আগামী বুববার থেকে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com