জুলাই বিপ্লব : রাজনগরের সালেহ আহমদের শরীরে ২’শ ছররা গু*লি একাদিক রাবার বু*লেট লাগে

আউয়াল কালাম বেগ : গত বছর জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে পুলিশের ছররা গুলিতে মারাত্মক আহত হন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের রক্তা গ্রামের মৃত আব্দুস ছামাদ আলমগীরের ছেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ সালেহ আহমদ।
১৮ জুলাই ঢাকা যাত্রাবাড়ি, কুতুবখালি মোড় ছিল রণক্ষেত্র বিভিন্ন বিল্ডিংয়ের উপর থেকে একদিকে বৃষ্টির মত পুলিশের গুলি অন্যদিকে ছাত্রলীগ আগ্নেয়াস্র ও দেশীঅস্রসহ ইটপাটকেল নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা করে আমাদের মিছিলের উপর। আমি মিছিলের সামনে থাকায় পুলিশের ছড়া গুলি পায়ে, হাতে, মাথা ও চোখ সহ সারাশরীলে ২০০টি গুলি ও দুইটি রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। হাড়ের ভেতরে গুলি ঢুকেছে। এখনো মাথা, চোখে, হাত পা সহ সারা শরীলে ২০/২৫ টি গুলি রয়ে গেছে, চিকিৎসকেরা বলে দিয়েছেন, এ গুলো বের করা যাবে না। এগুলো বের করতে হলে বাম পা সম্পুর্ন কেটে ফেলতে হবে সারা শরীল কাটাকোটি করতে হবে। বাম চোখের আলো কমে গেছে। প্রচন্ড ব্যথা, দুর্বলতা নিত্যসঙ্গী। এগুলো নিয়েই জীবন কাটাতে হবে কিন্তুু আমিই ছিলাম পরিবারের আয় রোজগারের একমাত্র ব্যাক্তি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় চাকরিটাও হারিয়েছি। লেখা পড়ার পাশাপাশি টিউশনির আয় দিয়ে অভিবাবকহীন ৭ সদস্য পরিবারের মুখে ডাল ভাতের ব্যবস্থা করে দিতাম ঘটনার পর থেকে কোনোকাজ করতে পারিনা কথা বলতে পারিনা। আমার পরিবার জমি জমা বিক্রি করে চিকিৎসা বাবত সাড়ে ছয় লাখ টাকা খরছ করেছেন। আমার পরিবার এখন নিঃস্ব। টাকার অভারে চিকিৎসা নিতে পারিছিনা আমি পুঙ্গ হয়েগেছি এখন আর পরিবারে ডাল, ভাতের ব্যবস্থা করে দিতে পারছিনা। পরিবার অনাহারে অর্ধাহারে দুর্বিষহ দিন কাটছে। এভাবে দুর্বিষহ ঘটনা কষ্ট ও যন্ত্রনার বর্ননা করেন জুলাই৩৬ বিপ্লবে আহত হাফেজ সালেহ আহমদ।
জানাযায়, মৌলভীবাজার জামেয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসা থেকে মিসকাত পাস করে সালেহ আহমদ উন্নত শিক্ষার জন্য ঢাকায় চলে যান। ঢাকার কোনো মাদ্রাসায় ভর্তির সুযোগ না পেয়ে একটি প্রাইভেট মাদ্রাসায় চাকরি নিয়ে মেসে থাকতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনে একদফার দাবি আদায়ে ছাত্র গনঅভ্যুত্থানে যোগ দেন হাফেজ সালেহ আহমদ। প্রতিদিন মিছিলের সামনে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতেন। ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ি, কুতুবখালি মুড় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। সকাল ১০টা থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়। ছাত্রলীগ, পুলিশ, র্যাব একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্রজনতার উপর। মুহূর্তেই যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে যায় যাত্রাবাড়ি, কুতুবখালি মোড় ও আশেপাশের এলাকা। তিনি বলেন আগের দিনও অনেক মার খেয়েছি তবুও পিছু হটিনি। ইটের টুকরো হাতেই আমরা প্রতিরোধ গড়ছিলাম। একপর্যায়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিভিন্ন বিল্ডিংয়ের ছাদ ও ফ্লাইওভারের উপর থেকে বৃষ্টির মত পুলিশের গুলি, টিয়ারসেল, রাবার বুলেট, নিক্ষেপ করে আন্দোলন কারীদের তার্গেট করে। আমি মিছিলের সামনে থাকায় বেশি আক্রাস্ত হই। আহতদের বহনকারী তিনটি এম্বুলেন্স ঢাকা মেডিকেলের দিকে সেখানে পৌঁছার আগেই ছাত্রলীগ আটকেদেয় এবং এম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর করে। স্থানীয় এক ঔষধ বিক্রেতা উনার ফার্মেসীতে সতর্কতার সহিত আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ৫ আগস্ট পর্যন্ত শরীরে ২০০ ছররা গুলি আর রাবার বুলেট বহন করে অসহনীয় ব্যাথা যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটতে হয়েছে। মরেই যদি যাব আন্দোলন করেই মরব, এটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছি। চিকিৎসার সুযোগ পাইনি কোথাও। ৫ আগস্টের পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) চিকিৎসা নিয়ে শরীর থেকে কিছু গুলি ও রাবার বুলেট বের করা হয়। জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে পাননি কোনো ধরনের সহায়তা। এমনকি সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় আহতদের তালিকায় এ ক্যাটাগরির আওতায় পরলেও আমাকে রাখা হয়েছে বি ক্যাটাগরিতে। আক্ষেপ করে বলেন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নিজেই হলেন বৈষম্যের শিকার? চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছি স্থানীয় হাসপাতালে নিজের খরছে, কারো সহযোগিতা পাইনি। হাফেজ সালেহ আহমদ বলেন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি আমরা। স্বৈরাচার হাসিনার রক্তচক্ষু ভয় করিনি। তবে ২০০-র বেশি গুলি শরীরে নিয়ে বেঁচে আছি, তবু দেশ ও আন্দোলনের প্রতি ভালোবাসা অটুট। আমি চাই, শহীদদের স্বপ্ন যেন পূর্ণতা পায়। আমরা যে যুদ্ধ করেছিলাম, সেটা যেন ব্যর্থ না হয়। সালেহ আহমদের বাবা বেঁচে নেই মা কথা বলতে চাননি ক্যামেরার সামনেও আসেননি ভাই সাদিক আহমদ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, জুলাই বিপ্লবে আমার ভাই যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তাতে আমি গর্বিত। আমি চাই, সরকার আমার ভাইয়ের মতো আহতদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা করেন। এবং ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবী জানান।



মন্তব্য করুন