মৌলভীবাজারে এনসিপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দলীয় নেতাকে অপহরণ

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দলের এক নেতাকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তাকে শ্রীমঙ্গল থানায় উপস্থিত হয়ে আইনগত সহায়তা প্রার্থনা করেন।
শ্রীমঙ্গল থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ২৬ জুন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা শাখার মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন যে, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুনেদের নেতৃত্বে দলের কয়েকজন তাকে গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। এসময় তাকে এহসান জাকারিয়ার সাথে দ্বন্দ্বে জড়ালে মেরে গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়।
তিনি আরও জানান, কুলাউড়ায় কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের সফর উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ ও মতবিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২৬ জুন সকালে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্বর থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর কুলাউড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় জেলা এনসিপির সদস্য সচিব রুহুল আমিন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি এবং এনসিপির অন্যান্য কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে দাওয়াত প্রদান, কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গাড়িতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
কুলাউড়ায় কর্মসূচি চলাকালীন সময়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
এছাড়া কুলাউড়ার কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজার শহরের শমশেরনগর রোডে আরেক দফা এহসান জাকারিয়ার সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের ঢাকা বাস স্ট্যান্ড এলাকার জাম্বু মিয়ার গ্যারেজের পেছন থেকে আব্দুল্লাহ আল হুসাইনকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাটি এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে এবং এতে দলের নিজস্ব নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ এবং অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



মন্তব্য করুন