টিফিনের টাকায় সবুজের স্বপ্ন, মৌলভীবাজারে শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

চৌধুরী ভাস্কর হোম : একটি টিফিনের টাকা, যা সাধারণত ক্ষণিকের ক্ষুধা মেটাতে ব্যয় হয়, সেই সামান্য অর্থই যখন শত শত গাছের চারায় রূপ নেয়, তখন তা হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প। মৌলভীবাজারে এমনই একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ। শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা জমিয়ে পরিচালিত “টিফিনের টাকায় সবুজ” কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণের মাধ্যমে তারা পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শনিবার ৪ জুলাই মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের জাকান্দি গ্রামে সংগঠনটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিশু-কিশোর, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুদের মাঝে প্রায় ৪০০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি এলাকায় নিম ও আমগাছের চারা রোপণ করা হয়। এছাড়া জাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোপণের জন্য বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের হাতে ৪০টি চারা তুলে দেওয়া হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তারা বলেন, একটি গাছ শুধু ছায়া বা ফলই দেয় না; এটি বিশুদ্ধ বাতাস, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করার অন্যতম ভিত্তি। তাই প্রত্যেক নাগরিকের উচিত অন্তত একটি হলেও গাছ লাগানো এবং তার যত্ন নেওয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক, স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিনিধিরা। তারা এই উদ্যোগকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক হাম্মাদ নূর-ই সাদী, অর্থ সম্পাদক তানজিন হোসেন, অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক রেদুয়ান আহমদ এবং সদস্য প্রীতম ও মুগ্ধসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
জানা যায়, লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সদস্যরা সবাই বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী। নিজেদের টিফিনের টাকা সঞ্চয় করে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী সচেতনতা, পথশিশুদের সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এবার সেই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবেশ রক্ষার প্রত্যয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের এমন সচেতন ও মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তাদের এই কার্যক্রম অন্য তরুণদেরও সমাজ ও পরিবেশের কল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
স্বল্প সামর্থ্য, কিন্তু দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, এই দুইয়ের সমন্বয়ে লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ প্রমাণ করেছে, পরিবর্তন আনতে বড় অর্থের নয়, প্রয়োজন বড় মনের। টিফিনের টাকায় গড়ে ওঠা এই সবুজ স্বপ্ন একদিন হয়তো আরও বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়বে দেশের প্রতিটি প্রান্তে।



মন্তব্য করুন