আউশক্ষেত ও শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত, কমলগঞ্জে নদী ভাঙন; ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

July 9, 2026,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ : গত দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলাই নদীর সীমান্তবর্তী মখাবিল এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় বিএসএফ’র বাঁধার কারনে মখাবিলে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদী ভাঙনে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে এবং সড়কের কালভার্ট ভেঙ্গে পড়েছে। পানির স্রোতে রোপিত আউশক্ষেত ও শাকসবজি’র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জানা যায়, অব্যাহত বর্ষনের কারনে ভারতীয় পাহাড়ি ঢল নেমে কমলগঞ্জের নদী, ছড়া খাল-বিল উপচে পানি বেরিয়ে আসে। উজানের প্রবল স্রোতে ধলাই নদীর ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় বুধবার রাতে নদী ভাঙন দেখা দেয়। নদী ভাঙনের ফলে ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালায়েরবিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দের গাঁও, তেঁতইগাও, ভানুবিল ঘোরামারা গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় বিএসএফ’র বাঁধার কারনে মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে নদী ভরাট হলেই মখাবিল এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার এই পানি বর্তমানে নিম্নাঞ্চলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার পানির স্রোতে কৃষকদের রোপিত আউশক্ষেত এবং সবজি ক্ষেত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে কৃষকরা অভিযোগ তুলেছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়তে পারে।

এদিকে বর্ষনের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে কমলগঞ্জের মাধবপুর ভাযা শ্রীমঙ্গলে যাতায়াতের সড়কে নুরজাহান চা বাগানের গোয়াবাড়ি নামকস্থানে একটি কালভার্ট ধ্বসে পড়েছে। এছাড়া আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে।

শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯১ মিমি, বুধবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৯ মি.মি. এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বৃষ্টিপাতের কারনে ঢল নেমে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানি থাকায় ক্ষয়ক্ষতির কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় বিএসএফ এর বাঁধার কারনে মখাবিলের এই অংশটুকুতে কাজ করানো সম্ভব হয়নি।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর ভাঙনে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যা প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া বন্যার বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com