নিজের পরিচয়ে বাঁচুন, নিজের কর্মে স্মরণীয় হোন

বশির আহমদ : মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো নিজের পরিচয় তৈরি করা। শুধু অন্যের পরিচয়ে পরিচিত হয়ে জীবন কাটিয়ে দেওয়া কোনো বড় অর্জন নয়। একজন মানুষ কোন পরিবারের সন্তান, কার আত্মীয় বা কার পরিচিত,এসব তার পরিচয়ের অংশ হতে পারে। তবে প্রকৃত পরিচয় তৈরি হয় তার নিজের কাজ, যোগ্যতা, সততা ও মানুষ ও সমাজের জন্য করা অবদানের মাধ্যমে।
আমাদের প্রত্যেকেরই একবার নিজেকে প্রশ্ন করা প্রয়োজন,আমি কে? আমি কী করছি? আমার জীবনের উদ্দেশ্য কী? পৃথিবীতে আমি কী রেখে যেতে চাই? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে পারলেই জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
জীবন চিরস্থায়ী নয়। একদিন সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তখন মানুষের সম্পদ, পদ-পদবি কিংবা সামাজিক অবস্থানের চেয়ে তার ভালো কাজ ও মানুষের জন্য করা অবদানই বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকে।
একজন মানুষ চলে যাওয়ার পর যদি তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয়,তিনি অমুকের ছেলে, অমুকের আত্মীয় কিংবা অমুকের পরিচিত ব্যক্তি,তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, নিজের এমন কী পরিচয় তিনি তৈরি করে গেলেন, যার কারণে মানুষ তাকে নিজের নামেই স্মরণ করবে?
আল্লাহ প্রত্যেক মানুষকে বুদ্ধি, মেধা ও চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়েছেন। প্রত্যেকের মধ্যেই কোনো না কোনো বিশেষ যোগ্যতা ও সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় আমরা সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাই না। অন্যকে অনুসরণ করতে করতে, অন্যের সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে কিংবা অন্যের পরিচয়ের আড়ালে থাকতে থাকতে নিজের প্রতিভা ও সামর্থ্যকে অবহেলা করি।
অথচ প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানো। নতুন কিছু শেখা, ভালো কিছু করার চেষ্টা করা, মানুষের উপকার করা এবং সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখা,এসবের মাধ্যমেই একজন মানুষ নিজের একটি সুন্দর পরিচয় তৈরি করতে পারে।
অন্যের ছায়ায় সারাজীবন দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে নিজের যোগ্যতায় নিজের অবস্থান তৈরি করা অনেক বেশি সম্মানের। কারণ ধার করা পরিচয় মানুষকে সাময়িকভাবে পরিচিত করতে পারে, কিন্তু নিজের কর্মই একজন মানুষকে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখে।
তাই আমাদের প্রত্যেকেরই ভাবা উচিত, আমি কি শুধু অন্যের পরিচয়ে পরিচিত হয়ে থাকব, নাকি নিজের একটি পরিচয় তৈরি করব? আমি কি শুধু জীবন পার করব, নাকি জীবনে এমন কিছু করে যাব, যার কারণে মানুষ আমাকে মনে রাখবে?
জন্মগ্রহণ করা আমাদের হাতে ছিল না। কিন্তু জীবনকে কীভাবে অর্থবহ করব, মানুষের জন্য কী করব এবং পৃথিবীতে কী রেখে যাব,সেটা অনেকটাই আমাদের হাতে।
তাই অন্যের পরিচয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের যোগ্যতা, মেধা, সততা ও কর্মের মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করা উচিত। এমন ভালো কাজ করে যাওয়া উচিত, যাতে আমরা পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পরও আমাদের কাজ ও অবদান মানুষের মুখে মুখে থাকে।
লেখক : বশির আহমদ, মৌলভীবাজার সদর।



মন্তব্য করুন