মৌলভীবাজার আইনজীবি সমিতির নির্বাচন শতাধিক নন-প্রেক্টিশনার সরকারী বে-সরকারী চাকুরীজীবিও ভোটার !

আবদুর রব॥ মৌলভীবাজারের জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচন আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন আইনজীবি নেতা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। অন্যান্য পদে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতা নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭২ সালের বার কাউন্সিল রুলস্ এন্ড রেগুলেশনস্ অ্যাক্ট অমান্য করে শতাধিক সরকারী, বে-সরকারী ও শায়ত্বশাসিত প্রতিষ্টানের চাকুরীজীবিও উক্ত নির্বাচনে ভোটার হয়েছেন।
জেলা আইনজীবি সমিতি সুত্রে জানা গেছে, সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩৩৬ জন। এরমধ্যে শতাধিক সরকারী ও বে-সরকারী চাকুরীজীবি চলমান পেশা গোপন রেখে বার কাউন্সিলের সনদ গ্রহন করেছেন। তারা একদিকে চাকুরী করছেন, অন্যদিকে আদালতে কষ্মিনকালে না গিয়েও আইনজীবি সমিতির সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন যা বার কাউন্সিল আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। অপরদিকে দ্বৈত পেশাদার নন-প্রেক্টিশনার এসব ভোটার সমিতি নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। এ ব্যাপারে ৫ ফেব্রুয়ারী মৌলভীবাজারের সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট ইফতিয়ার উদ্দিন আহমেদ নির্বাচন কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সুত্রমতে নির্বাচনের ভোটার তালিকার ৬৯ নং সদস্য এইচএম মুশতাক আহমদ ১৯৮৯ সালের ৩ এপ্রিল বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত হন। কিন্ত তিনি অদ্যাবধি সোনালী ব্যাংক মৌলভীবাজার প্রিন্সিপাল শাখায় কর্মরত রয়েছেন। ৯৮ নং ভোটার জুড়ী নয়াবাজার মাদ্রাসার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক আব্দুর রহমান। শিক্ষকতার পেশা গোপন রেখে ১৯৯১ সালে তিনি বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবির সনদ গ্রহন করেন। সারা বছর মাদ্রাসায় থেকে আইনজীবি সমিতির নির্বাচন এলেই আদালতপাড়ায় যান ভোট দিতে। ১০১ নং ভোটার কমলগঞ্জের কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা øেহেন্দু বিকাশ গোস্বামী, ১০২ নং ভোটার জুড়ী ধামায় উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীরচন্দ্র সিনহা, ১৭৭ নং ভোটার মৌলভীবাজারের অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহিদ, কুলাউড়া গ্রাম মডেল প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হাছনা বেগম, কলেজ শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার জাহান, কুলাউড়ার প্রাইমারী শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ২৮৩ নং ভোটার কমলগঞ্জ ভুমি অফিসের তহশিলদার নিত্য গোপাল গোস্বামী, সরকারী চাকুরীর তথ্য গোপন রেখে বার কাউন্সিলের সনদগ্রহণ করেন এবং সনদ গ্রহণের তথ্য গোপন রেখে বছরের পর বছর ধরে সরকারী চাকুরী করছেন। এভাবে শতাধিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষক, ব্যাংকার ও সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী মুল পেশা গোপন রেখে আদালত পাড়ায় না গিয়েও আইনজীবি সমিতিতে সদস্যপদ বহাল রেখেছেন।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার আইনজীবি সমিতির নির্বাচন কমিশনার সিনিয়র অ্যাডভোকেট ভুপতি রঞ্জন চৌধুরী জানান, বার কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্তদের সদস্য ও ভোটার করতে সমিতির আপত্তি থাকে না। অন্য কোন পেশায় জড়িত নন মর্মে অঙ্গিকারনামা দাখিল করে কাউন্সিল থেকে সনদপত্র গ্রহণ করেও কেউ যদি ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকেন তবে তা প্রচ্ছন্ন প্রতারণা। এব্যাপারে কেবল বার কাউন্সিলই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।



মন্তব্য করুন