মৌলভীবাজারে ধলাই নদীর পানিতে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত

হোসাইন আহমদ॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর তিনটি পুরনো ভাঙন দিয়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এই ২৫টি গ্রামের সহ¯্রাধিক কাঁচা-পাকা ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
এদিকে মুন্সীবাজার ইউনিয়নের কয়েকটি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে বাসুদেবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, করিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর জালালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রুপসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলে ওই ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বাসুদেবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় কান্তি দেব জানান, বিদ্যালয়ের আশেপাশে পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছে না। এঅবস্থায় প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পানি না কমলে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবেনা বলে তিনি জানান।
এদিকে মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর বাদে করিমপুর, গোপালনগর, কোনাগাঁও এই তিনটি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে।

২৩ এপ্রিল রোববার ভোর থেকে এলাকাবাসী নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে করিমপুরের ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ ঠেকাতে চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে তিন দফা একই স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যথাসময়ে বাঁধের ভাঙন বন্ধ করলে এই অবস্থা তৈরী হতোনা।
এদিকে হঠাৎ করে পানি প্রবেশ করায় বোরো ধান আউশের বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এতে করে কৃষকরা ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। এদিকে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। মৌলভীবাজার-কমলগঞ্জ সড়কের উপর পানি উঠে পড়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে।
এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্তী সেলফোনে জানান, ভাঙনের বাঁধ মেরামতের প্রস্তুতির সময়ই পানি এসে প্রবেশ করেছে। স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামতের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হলে ব্লকের মাধ্যমে কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।



মন্তব্য করুন