আলী আমজদ স্কুলের পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়

হোসাইন আহমদ॥ সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলী আমজদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মডেল টেস্ট ও টিউটোরিয়াল পরীক্ষার নামে কুমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১১‘শ টাকা স্কুলের দুর্নীতিবাজ কিছু শিক্ষক অতিরিক্ত পরীক্ষা ফি ও কোচিংয়ের নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষাধিক টাকা। এনিয়ে সচেতন অভিবাবক মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক অভিবাবক এর প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে টিসি নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার হুমকির দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, মডেল টেস্ট ও টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় আলী আমজদ স্কুলের দশম শ্রেণীতে ২২০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মডেল টেস্ট পরীক্ষা ফি বাবত জনপ্রতি ৪ শত টাকা করে আদায় করা হয়েছে ৮৮ হাজার টাকা। নবম শ্রেণীতে ২২০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টিউটোরিয়াল পরীক্ষা ফি বাবত জনপ্রতি ৭৫ টাক করে আদায় করা হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। অষ্টম শ্রেণীতে ২২০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মডেল টেস্ট পরীক্ষা ফি বাবত জনপ্রতি ৩শত ৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে ৭৭ হাজার টাকা। একই ভাবে সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণীতে টিউটোরিয়াল পরীক্ষা ফি বাবত জনপ্রতি ৭৫ টাক করে আদায় করা হয়েছে ৩২ হাজার টাকা। গত ফেব্রুয়ারীর শেষ দিকে এবং মার্চের প্রথম দিকে দশম ও অষ্টম শ্রেণীতে ১ মাস কোচিংয়ের নামে কয়েক জন শিক্ষক ৪৪০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এক মাসের কথা বললেও পড়ানো হয়েছে ১৫-২০ দিন। দশম ও অষ্টম শ্রেণীতে ১০০ নম্বারের এবং নবম, সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণীতে ১০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকদের এমন বাণিজ্যে এখন দিশেহারা স্কুলের অভিবাবকরা।
অনেক হতদরিদ্র দিনমজুর অভিবাবকের পক্ষে শিক্ষকদের গলাকাটা ওই ফি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ করে পরীক্ষার ফি পরিশোধ করতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।
অথচ দেখা গেছে স্কুলের বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনায় মডেল টেস্ট অথবা টিউটোরিয়াল পরীক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে অর্ধবাষিক, বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃকও নির্ধারিত। জেলার পার্শ্ববর্তি সরকারি ও বেসরকারী মাধ্যমিক স্কুলে খোঁজ নিলে দেখা যায় তারা নিয়মিত সিলেবাসের আলোকে ক্লাস নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিবাবক বলেন, জানুয়ারীতে ক্লাস শুরু হওয়ার ১৫-২০ দিন পর স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এরপর মে মাসে গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য ছুটি ছিল ১০ দিন। রমজান মাস উপলক্ষে ২৯ জুন পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ থাকছে। পরে ৬ জুন থেকে আবার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু। ৫ মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীরা প্রায় ২মাস ক্লাস করেছে। কিন্তু এখন সিলেবাস শেষ না করে পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে টাকা।
অভিবাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতি গড়ার কারিগর কিছু সংখ্যক দৃষ্কতকারী শিক্ষকরা যদি কুমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন বাণিজ্য করেন তাহলে ছাত্ররা তাদের কাছ থেকে কি শিখবে।
এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তুলনা মূলক ভাবে আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় ভালো নয়। আগামী পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য ওই পরীক্ষা গুলো নিচ্ছি। পরীক্ষায় বেশি ফি নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে বিষয়টি এরিয়ে যান।



মন্তব্য করুন