নবজাতকের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিতে আদালতের নির্দ্দেশ : শিশুটিকে যে কেহ জিম্মা বা দত্তক নিতে পারবেন

এস এম উমেদ আলী॥ অভিবাবকবিহীন নবজাতকের প্রকৃত অভিবাবক খুজে বের করা ও হাসপাতালের চিকিৎসককে সর্বোচ্চ যত্ন সহকারে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেয়া এবং সমাজ সেবা কার্যালকে সার্বিক খোজ নেয়ার নির্দ্দেশ দিয়েছেন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (শিশু আদালত) বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। পাশাপাশি নবজাতকের প্রকৃত অভিবাবককে খুঁজেপেতে গনমাধ্যমে প্রচারেরও অনুরোধ জানান। আদালত আরো জানিয়েছেন যে কেউ শিশুটিকে দত্তক নিতে পারবেন। এজন্য আগ্রহীরা ৫ জুনের মধ্যে আদালতে আদালতে আবেদন করতে পারবেন এবং ঐ দিন শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।
ঘটনার বিবরণ ও মৌলভীবাজার মডেল থানা সূত্রে জানাযায়, গত ২৪ মে বুধবার সকাল ৯ টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হিলালপুর এলাকার ফতেপুর ভিলা নামীয় একটি বাড়ির দেয়ালের ভেতর তীর মিয়া নামে এক ব্যাক্তি ঘাস কাটতে গেলে দেখতে পান একটি নবজাতক জীবিত ছেলে শিশু পড়ে রয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে মডেল থানার ওসি সুহেল আহমদ সহ একদল পুলিশ ঘটনা স্থলে ছুটে যান। পুলিশ জীতিব শিশুটিকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ বিষয়ে পুলিশ ২৪ মে মৌলভীবাজার মডেল থানায় (জিডি নং ১৩৫১) জিডি করে। এ ঘটনা তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় এস আই শহীদুল ইসলামকে।
শিশুটির বিষয়ে ওসি সুহেল আহমদ প্রাথমিক দ্বায়িত্ব নিয়ে বলেন, শিশুটির পিতা মাতার সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত তার চিকিৎসা সহ নিজের সন্তানের মত দায়িত্ব পালন করবেন। ঐ দিন সারাদেশে বল্য বিবাহমুক্ত দিবস ছিল। সে বিষয়টি চিন্তাকরে সেই দিন অভিবাবকবিহীন উদ্ধার হওয়া নাবজাতকটির নাম রাখেন মুক্ত।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ০১/০৬/১৭ তারিখের এক অদেশে আরো বলা হয় অত্র মামলার অভিভাবকবিহীন নবজাতক ছেলে শিশু বর্তমানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। নবজাতক ছেলে শিশুটি দত্তক নেওয়ার জন্য ৪ জন আদালতে আবেদন করেছেন। তারা হলেন মোঃ আব্দুল হাদী, মোঃ মনিরুজ্জামান, সুলতানা বেগম এবং রোমান আহমদ।
তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য সহ বিজ্ঞ আইনজীবীগণ যাদের মাধ্যমে শিশুটি দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন করিয়াছেন তাদের ভাষ্যমতে শিশুটিকে ১/২ দিন বয়স অবস্থায়-যখন সে পৃথিবীর আলো ও রাতের আধারে ভয়াবহতা দেখে নাই, চাঁদের জ্যোৎ¯œার সৌন্দর্য্য দেখে নাই, জন্মধাত্রী মা ও জন্মদাতা পিতার মুখের চুমো/আদর গ্রহণ করিতে পারে নাই সেই শিশুটিকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় প্রাপ্ত হইয়া একজন মানব দরদী পুলিশ অফিসার শিশুটিকে উদ্ধার করিয়া তাহার চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল ভর্তির ব্যবস্থা করান এবং আই.ও-এর তথ্যমতে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, মৌলভীবাজার মডেল থানা থাকে দেখাশুনা করিতেছেন এবং তত্ত্বাবধায়ক, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল-এর নেতৃত্বে এবং হিতাকাঙ্খী অন্যান্যদের ¯েœহ ও আর্শিবাদে অবুঝ শিশুটি চিকিৎসা পাচ্ছে এবং পরম করুণাময় আল্লাহ্’র অশেষ রহমতে শিশুটি জীবিত আছে।
বিজ্ঞ বিচারক তার আদেশে আরো বলেন পাষন্ড পিতার ঔরষে জন্ম নেওয়া শিশুটির কোন দোষ থাকিতে পারে না-শিশুটির গর্ভধারীনি মায়ের ১০ মাসের গর্ভধারনের জ্বালা তার রক্তে তিলে তিলে গড়া শিশুটি বস্তাবন্দি/ডাস্টবিনে পড়িয়া থাকিবে বা ফেলিয়া রাখিতে পারিবে গর্ভধারীনি বা জন্মদাতা পিতা তা ভাবতে গেলে উভয়কে পশুর চাহিতেও বিবেকহীন, হৃদয়হীন, মানুষরূপী শয়তান বলিয়া বিবেচিত হয়। গর্ভধারীনি বা পিতার ঔরষে জন্ম নেওয়া শিশুকে সেই পিতা-মাতা শিশুটিকে রাস্তায় ফেলিয়া দিয়া যাইবে শিয়াল কুকুরের খাবার হিসাবে এমন অমানুষেেদর যৌন চাহিদা মিটানোর সকল উপযোগিতা নষ্ট করিয়া ফেলা উচিৎ বলিয়া প্রতীয়মান হয়।
বিজ্ঞ বিচারক, যে অসভ্য, কুলাঙ্গার পিতা-মাতা শিশুটিকে জন্ম দেওয়ার পর সেই শিশুটিকে পৃথিবীর সূর্ষের আলো দেখার আগেই রাস্তায় শিয়াল কুকুরের খাবার যোগানোর চিন্তা ভাবনা করিয়াছেন তাহাদের বংশের যদি কেহ উপযুক্ত প্রমান সাপেক্ষে অত্র আদালতে আবেদন জিম্মা নেওয়ার আবেদন করে তবে উহা বিবেচনার যোগ্য বলিয়া আশা করেন। পাশাপাশি শিশুটির প্রকৃত অভিভাবক খুজিয়া বাহির করা ও প্রচারের ব্যবস্থা করার জন্য ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন।
শিশুর জিম্মা বিষয়ে শুনানীর জন্য আগামী ০৫/০৬/২০১৭ তারিখ, সোমবার দিন ধার্য্য করা হইল।
এছাড়া নিষ্পাপ এ শিশুটিকে কেহ জিম্মা বা দত্তক নিতে চাইলে নিন্মের শর্ত সাপেক্ষে ০৫/০৬/২০১৭ তারিখের মধ্যে আদালতে আবেদন করতে পাবেন।
আবেদনকারী স্বামী-স্ত্রী উভয়ের স্বাক্ষর সহ অঙ্গীকারনামা ও ছবি থাকিতে হইবে, উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকিতে হইবে এবং তাহা দাখিল করিতে হইবে, নাগরিকত্ব সনদপত্র থাকিতে হইবে, আবেদনকারীদের বয়স, পেশা আবেদনপত্রে উল্লেখ করিতে হইবে, সন্তানাদ আছে কি-না তাহা উল্লেখ করিতে হইবে বা সন্তান হইয়া মারা গিয়াছে কি-না তাহাও উল্লেখ করিতে হইবে, বিবাহিত জীবন কত দিনের তাহা উল্লেখ করিতে হইবে, সন্তান না হওয়ার ডাক্তারী সনদপত্র দাখিল করিতে হইবে, আয়ের উৎস/বার্ষিক আয় উল্লেখ করিতে হইবে, আদালত প্রদত্ত অন্যান্য শর্তাদি প্রতিপালন করিতে হইবে।



মন্তব্য করুন