স্কুল শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ : স্বামী পেটালেন প্রধান শিক্ষককে

June 12, 2017,

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্রীধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনধীর দাসের বিরুদ্ধে সহকর্মী এক শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে শিক্ষিকা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল আদালত এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
জানাযায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনধীর দাস একই বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষিকাকে (জাকেরা আক্তার) দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি করে আসছেন। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষিকাকে অ-কারণে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলাসহ বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে আসেননা বলে অন্যত্র বদলীর হুমকি-ধমকি দিতেন।
প্রধান শিক্ষকের এমন যৌন হয়রানির বিষয়টি শিক্ষিকা স্কুল কমিটির সভাপতি রুসন মিয়া, স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজু মিয়া সহ আরো কয়েকজনকে অবহিত করেন। গত ১৬ মে বিদ্যালয়ে কক্ষে আটকিয়ে শীলতাহানী ও জোর পূর্বক ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক রনধীর দাস। এ বিষয়টি শিক্ষিকার স্বামী দুলার মিয়ার কাছে পৌছালে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক রনধীর দাসকে সন্ধ্যায় লাটি পেটা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, শ্রীধরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। উক্ত স্কুলে আব্দুল কাইয়ুম নামের আরো একজন সহকারি শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক রনধীর দাস অনৈতিক কার্যকলাপে করিয়া আসিতেছেন শিক্ষিকার সাথে। বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা প্রায় ৯ বছর পূর্বে স্কুলে যোগদান করেন। যোগদানের ২/৩ বছর পের হতেই তার প্রতি কু-দৃষ্টি দিতে থাকেন ঐ প্রধান শিক্ষক। এমন কি তার সাথে অনৈতিকভাবে মেলা মেশার জন্য কথার ফাঁকে হাসির স্থলে প্রস্তাব দিতেন। প্রায় সময় কাজের কথা বলে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে অযথা তার গায়ে হাত দিয়ে কথা বলতেন। এ সব বিষয়ে সহকারি শিক্ষিকা আপত্তি করিলে প্রধান শিক্ষক তাকে হুমকি দিয়ে জানাতেন অন্যত্র বদলি করিয়া দিবেন অথবা শান্তিতে চাকরি করিতে দিবেন না। প্রধান শিক্ষক রনধীর দাসের প্রস্থাবে রাজি না হওয়ায় শিক্ষিকার প্রতিক্ষিপ্ত হইয়া উঠেন।
সহকারি শিক্ষিকা তার লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, প্রধান শিক্ষক তাহার স্ত্রী ও সন্তান অন্যত্র রেখে বিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। ঐ ভাড়া বাসায় তাকে একা যাওয়ার জন্য প্রায়ই প্রস্তাব দিতেন। উক্ত প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক তার উপর আরও ক্ষিপ্ত হইয়া উঠেন। এমনকি হুমকি দেন তার সাথে জোর পূর্বক কু-কাজ করিবেন। স্কুল শিক্ষিকার বাড়ি ও তার স্বামীর বাড়ি স্কুলের পার্শবর্তী এলাকায় হওয়ায় মান সম্মান হারানোর ভয়ে কাউকে প্রথমত কিছু বলেননি। প্রধান শিক্ষকের যৌন হয়রানির মাত্রা শিক্ষিকার প্রতি ক্রমশ বাড়তে থাকলে শিক্ষিকা বাধ্য হয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি, সহকর্মী অপর সহকারী শিক্ষক ও এলাকার কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। বিষয়টি সমাধানের জন্য গত ১৩ মে প্রধান শিক্ষকের সাথে তারা আলোচনায় গেলে কোন সদউত্তর পাননি।
স্কুল শিক্ষিকা জানান, ১৬/০৫/২০১৭ তারিখ সকালে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পর দেখেন প্রধান শিক্ষক তাহার অফিস কক্ষে বসা। স্কুলে শিক্ষার্থী খুব বেশি আসে নাই। এ সময় প্রধান শিক্ষক তাহার অফিস কক্ষে ডাকেন। অফিস কক্ষে ঢোকার সাথে সাথে প্রধান শিক্ষক কক্ষের দরজা আটকিয়ে শীলতাহানী ও জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। প্রধান শিক্ষকের শীলতাহানীর আচরনে কক্ষ থেকে বের হয়ে সজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে পরে যান। পরে তাকে স্কুলের পাশে একটি বাড়ীতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিক্ষিকার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। স্ত্রীকে শীলতাহানী ও জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি স্বামী জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক রনধীর দাসকে ১৬/০৫/২০১৭ সন্ধ্যায় মার-ধর করেন। ঘটনার পরপর প্রধান শিক্ষক মৌলভীবাজার মডেল থানায় স্কুল শিক্ষিকার স্বামী দুলাল মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্যযে, দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক রনধীর দাস এর যৌন নিপিরনের ঘটনা শিক্ষিকার স্বামীর পারিবারিক সম্মান ও মানমর্যদা হারানোর ভয়ে অন্যত্র না জানিয়ে শুধু স্কুল কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় গন্যমান ব্যক্তিবর্গকে জানান। তাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিমাংসা না হওয়ায় গত ২২/০৫/১৭ তারিখ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯ (৪) খ ধারায় প্রধান শিক্ষক রনধীর দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন।
এ বিয়য়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রনধীর দাশের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে শীলতাহানী ও জোর পূর্বক ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন গত ১৬ মে মঙ্গলবার বিকেলে বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা জাকিরা আক্তারের স্বামী দুলাল মিয়া সহ আরো কয়েকজন তার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করেন। আহত অবস্থায় তিনি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে শিক্ষক নেতারা তার পক্ষে ১৮ মে মানববন্ধন পালন শেষে হামলাকারীকে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন। এ ঘটনায় আসামীরা তার ক্ষতি সাধনের চেষ্ঠায় লিপ্ত রহিয়াছে মর্মে ও মারপিট উল্লেখ সহ নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় তিনি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার বলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষিকা পৃথক ভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com