লন্ডনের অগ্নিকান্ডে মৌলভীবাজারের একই পরিবারের ৫ সদস্য নিখোঁজ স্বজনদের লাশ পাওয়ার আকুতি নিস্তবদ্ধ খৈসাউরা গ্রাম

June 17, 2017,

হোসাইন আহমদ॥ “বাবা, মা ও ভাই-বোনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছি, এখন আমরা তাদের অন্তত অক্ষত অবস্থায় লাশ চাই, দেশে এনে হৃদয় ভরে জন্ম দাতা বাবার চেহারা দেখে নিজের বাড়ি থেকে তাদেরকে চীর দিনে জন্য বিদায় দেব” গতকাল বিকালে প্রতিবেদকের কাছে কান্না জড়িত কন্ঠে উপরের কথা গুলো বলেন নিখোঁজ কমরু মিয়ার বড় ছেলে বাড়িতে অবস্থানরত সুজন মিয়া।

সরেজমিন এলাকায় গেলে দেখা যায়, মানুষ অপেক্ষায় আছেন কখন লন্ডন থেকে ফোন আসবে তাদের লাশ পাওয়া গেছে। এলাকার সর্বস্থরের মানুষের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। অন্যান্য দিনের মতো হাসি-খুশি নেই ফৈখাউরা গ্রামের মানুষের মধ্যে। জুম্মার নামাজে মসজিদে মসজিদে দোয়া করা হয়েছে নিখোঁজ সেই পরিবারের জন্য। গ্রামবাসীর একটাই দাবি কমরু মিয়ার পরিবার জীবিত না থাকলে তাদের অন্তত মৃত লাশ তারা দেখতে চায়।

নিখোঁজ কমরু মিয়ার নাতি (মেয়ের ছেলে) মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ইংরেজি অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আকবর হোসেন বলেন, নানা, নানী, মামা ও খালার জীবিত লাশ পাওয়ার আশা আমরা ছেড়ে দিয়েছি। লন্ডনের সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি অন্তত তাদেরকে চিহ্নিত করে লাশটা যেন দেশে পাঠানো হয়।

নিখোঁজ কমরু মিয়ার ছেলে সুজন মিয়ার মেয়ে আয়শা আক্তার মৌ বলেন, রমজানের প্রথম দিকে দাদুর সাথে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন ঈদের পরই বাড়িতে আসবেন। তখন থেকে তাদের অপেক্ষায় ছিলাম। তারা আসলে অনেক মজা হয় এবং তাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের সেই আশা আর পূরণ হবে না শুধু আশাই রয়ে যাবে। এখন আমরা আর কিছু চাই না তাদরে লাশ চাই।

বাড়িতে আশা প্রতিবেশি রিপন মিয়া ও কাইয়ুম বলেন, তারা মাঝে মধ্যে দেশে আসলে আমাদের সাথে দেখা হত। কিস্তু এখন আর তাদেরকে জীবিত পাওয়া যাবে না। এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় প্রতিবেশিরা শোকাহত। সবাই তাদের জন্য দোয়া করছেন এবং এলাকাবাসী তাদের লাশ দেখতে চান।

উল্লেখ্য, লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ফৈসাউরা একই পরিবারের ৫ সদস্য গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে ওই ভবনে আগুন লাগার প্রায় ৩দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মিলছেনা কমরু মিয়ার স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের ৫ সদস্যের। তারা হলেন, কমরু মিয়া (৯০) স্ত্রী মিনা বেগম (৭০) ছেলে আব্দুল হামিদ (৩২), আব্দুল হানিফ (২৫) ও মেয়ে হুসনা আক্তার তানিমা (২০)।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com