রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভা বিক্ষোভ মিছিল

সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের চৌমুহনাস্থ কার্যলয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ব্যানারে নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে মিছিল শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌমুহনা এলাকায় সমাবেশ করে। জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জেলা কমিটির সভাপতি শহীদ সাগ্নিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা এনডিএফ’র সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আরজান আলী, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৩০৫-এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহিন মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং ২৪৫৩-এর সভাপতি মোঃ সোহেল আহমেদ, স’মিল শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান প্রমূখ। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর সেদেশের সরকারের বর্বব নির্যাতন ও গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর উপর স্বৈরাচারী অংসান সুচি সরকার নির্মম ও বর্বর নির্যাতন চালিয়ে হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে চলছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর লুটের পর আগুন জ্বালিয়ে রোহিঙ্গাদের দেশান্তরে বাধ্য করছে। সম্প্রতি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে অনেকে আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনার মূল হোতা হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ ও তার সৃষ্ট দালালেরা। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজার, প্রভাব-বলয়, বন্টন-পুনর্বন্টন নিয়ে বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো। সে আলোকে ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের প্রেক্ষিতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার ও বৃদ্ধি করতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় তারা বাংলাদেশকেও যুক্ত করে তৎপরতা চালাচ্ছে। মিয়ানমারের সাথে বৃহত সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্যে অগ্রসরমান পুঁজিবাদী চীনের গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক তথা সামগ্রিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। মিয়ানমারের সরকার মূলত চীনা সমর্থনপুষ্ট সরকার। চীন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তুতে সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করেছে। সিত্তুর সাথে চীনের মূল ভুখন্ডের সড়ক যোগাযোগ গড়ে তুলেছে। এই পথে চীনের সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে। তাছাড়া এই পথে সম্প্রতি চীনের তেলের পাইপ লাইন নির্মাণের কাজও চলছে। চীন চাইছে যে কোন জরুরী অবস্থায় বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ-চীনসাগর সংলগ্ন মালাক্কা প্রণালী এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সাথে তার সমুদ্র পথে বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে। সেই হিসাবেই মিয়ানমারের সিত্তুতে সমুদ্রবন্দর গড়ে তুলেছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বাধীন জোট চাইছে এ কাজে বাধা সৃস্টি করতে। মার্কন সাম্রাজ্যবাদ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে তৎপরতা চালাচ্ছে। বক্তারা বলেন সকল ধরণের জাতিগত নিপীড়নের জন্য দায়ী হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল স্বৈরাচারী সরকার। তাই রাখাইনের রোহিঙ্গাসহ সকল জাতিসত্ত্বার মুক্তি তথা আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শাসন-শোষণমূলক ব্যবস্থার উচ্ছেদের মধ্যদিয়ে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মুক্তি ও জাতিগত নিপীড়ন বন্ধ করার বিকল্প নাই। সমাবশে বক্তারা ১৫ সেপ্টেম্বর ভোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিলেটের কালাগুল এলাকা থেকে মালনীছড়া রাবার শ্রমিক সংঘের যুগ্ম-সম্পাদক ও বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক সুজন মিয়াকে আটক করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা চেষ্টা চালানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি ও সুজন মিয়ার উপর থেকে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।প্রেসবিঞ্জপ্তি॥



মন্তব্য করুন