মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে উলামা পরিষদ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আব্দুল কাইয়ুম॥ মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে (আরাকান) চলমান মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে মৌলভীবাজার শহরের দুটি জায়গায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জেলার বিভিন্ন কওমী মাদ্রাসার আলেমদের সমন্নয়ে গঠিত উলামা পরিষদ মৌলভীবাজার।
রোববার ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল দশটার দিকে শহরের টাউন ঈদগাহ মাঠে মৌলভীবাজার উলামা পরিষদের ডাকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।
সমাবেশের পূর্বে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আশেপাশে অবস্থিত বিভিন্ন কওমী মাদ্রাসা থেকে ছাত্র/শিক্ষকরা ও সাধারণ ধর্মপ্রান মুসল্লিরা সুচির ফাঁসি চাই, গণহত্যা বন্ধ করো, বার্মিজ পণ্য বর্জন করো ইত্যাদি সম্বলিত বিভিন্ন প্লেকার্ড ও ব্যানার নিয়ে মিছিল সহকারে সমাবেশে আসতে থাকে। সকাল সাড়েদশটার দিকে সমাবেশস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। প্রায় দেরঘন্টা সময় ধরে চলা সমাবেশের কারনে এ সময় সমাবেশস্থলের পাশের শাহমোস্তফা সড়কে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো শহর মিছিলের শহরে পরিনত হয়।
উলামা পরিষদ মৌলভীবাজারের সভাপতি ও প্রবীন আলেম মাওলানা আব্দুল বারী ধর্মপুরীর সভাপতিত্বে ও দারুল উলুম মাদ্রাসা মসজিদের খতিব মাওলানা মুজাহিদ আহমদের সভাপতিত্ত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বরুনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা খলিলুর রহমান হামিদী, মুফতি হাবিবুর রহমান, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন,মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা হোসাইন আহমদ,মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী,মাওলানা আব্দুল মুগনী, মূফতি সামছুজ্জুহা, মাওলানা লুৎফুর রহমান কামালী, মৌলানা সৈয়দ মুজাদ্দেদ আলী ও পৌর কাউন্সিলর, বিএনপি নেতা আয়াছ আহমদ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত মুসলিম গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এদেশের ধর্মপ্রান মুসলামানদের দাবীর প্রেক্ষিতে আমাদের বর্তমান সরকার নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য সিমান্ত খুলে দিয়ে আশ্রয় দিয়েছেন এ জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বক্তারা বলেন, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান মুসলিম গণহত্যাকে পৃথিবীর সকল নির্মমমতাকে হার মানিয়েছে। এ অবস্থায় একজন মুসলমান হিসেবে আমরা বসে থাকতে পারিনা, আমাদের এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তারা বলেন, রাখাইনে সেখানকার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা শিশু,বৃদ্ধা ও যুবতী সহ আমাদের হাজার হাজার মা-বোনদেরকে প্রকাশ্যে দিবালোকে ধর্ষণ করে হত্যা করছে, রোহিঙ্গাদের শতশত গ্রাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধংশ করে দেয়া হচ্ছে পাশাপাশি চলছে দানবীয় কায়দায় লোটপাট । এসব অপরাধে বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি বার্মিজ সেনাবাহিনীও সরাসরি জরিত, বক্তারা আরো বলেন, মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ হয়েছে। তাই রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় সেখানে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তারা সমাবেশে উপস্থিত সকলকে মায়ানমারের সেন্ডেল,কাপর, খাদ্য সহ সকল বার্মিজ পণ্য বর্জনের আহবান জানান এসময়।
সমাবেশ শেষে দুপুর বারোটার দিকে শহরের শাহমোস্তফা সড়ক থেকে কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহনে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুসুমবাগ এলাকার এস,আর প্লাজার সামনে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় সমাবেশের কারনে আশেপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হলে দূর্ভোগে পরেন পথচারিরা।



মন্তব্য করুন