মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান

September 23, 2017,

স্টাফ রিপোর্টার॥ মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলা সংসদ।

২৩ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন করেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা লিটন নন্দী। পরে কলেজ ক্যাম্পাতে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শেষে কলেজের শহীদ জিয়া মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সংসদের সভাপতি প্রশান্ত দেবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান রাজুর সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মো. রইসুজ্জামান, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ সংসদের সভাপতি সুবিনয় রায় শুভ, জেলা সংসদের দপ্তর সম্পাদক সুমন কান্তি দাশ, শহর সংসদের সাধারণ সম্পাদক মনীষা ওয়াহেদ, কলেজ সংসদের সাধারণ সম্পাদক তপন দেব নাথ প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিল মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহ সহ নাম না জান অনেক শহীদ। তাদের রক্তের শপথ নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সর্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক, সেক্যুলার, বৈষম্যহীন, একই পদ্ধতির ও গণতান্ত্রিক শিক্ষা নীতির লক্ষে আজো আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, আজও প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা সর্বত্রই ‘টাকা যার,শিক্ষা তার’ এই নীতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। অভ্যন্তীরণ আয় বৃদ্ধির নামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু করা হচ্ছে বাণিজ্যিক নাইট কোর্স। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ব্যবহার করে এর সুনামকে পুঁজি করে ব্যবসা করে চলছে দেশের বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। একমাত্র বেসরকারিকরণ বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকেই আজ ব্যবসা আর মুনাফায় পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান সরকার একদিকে নিজেদের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বলে দাবি করছে, অপরদিকে পাঠ্যপুস্তক থেকে শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উপেন্দ্র কিশোর রায়, হুমায়ন আজাদসহ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক লেখকদের লেখা বাদ দিয়ে লৈঙ্গিক বৈষম্যপূর্ণ,সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে রচিত গল্প,প্রবন্ধ, কবিতা পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে আমরা এক ভয়ংকর প্রজন্ম পেতে চলেছি,যার পরিণতি আমরা ইতোমধ্য হলি আর্টিজানের ঘটনায় দেখতে পেয়েছি যাদের কাছে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় মানবতা, মনুষ্যত্ব, বিবেক এর থেকে ও গুরুত্বপূর্ণ তাদের ধর্মের অহমিকা।

পরে সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ইউনিয়নের পাশাপাশি শিক্ষাথীরাও আবৃত্তি নাটক গানসহ বিভিন্ন বিভাগে অংশ গ্রহণ করেন।

সুমন কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, মৌলভীবাজার জেলা সংসদ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com