শাবাব-নাহিদ হত্যাকান্ডে বড় ভাই কে, পুলিশ নীরব কেন

ওমর ফারুক নাঈম॥ মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী শাবাব ও ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ আহমদ মাহি হত্যাকা-ে পেরিয়ে গেছে ১৪ দিন। এখন পর্যন্তগ্রেফতার হয়নি প্রধান আসামিরা। আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে গেল ২০ ডিসেম্বর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করে নিহতদের পরিবার ও মৌলভীবাজারবাসী। এই মানববন্ধনে বক্তারা সমালোচনার ঝড় তুলেন মৌলভীবাজারের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শাবাব-নাহিদ হত্যাকারীদের নিয়ে।
মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, মৌলভীবাজারে দূর্ভাগ্যজনক ও একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে অল্প কিছুদিন আগে। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি কোমলমতি ছাত্র সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হয়েছে। এই হত্যাকা-ের তীবৃ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই হত্যাকা- মৌলভীবাজারবাসীর জন্য দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক, লজ্জাজনক অপমানজনক। মৌলভীবাজারের ইতিহাসে এই ধরণের ঘটনা কখনও ঘটে নাই। সকল নাগরিকের কাছে অনুরোধ এই হত্যাকারীদের দেখলে আপনারা পুলিশের কাছে জানান। আমি আমার অবস্থান থেকে এদেরকে গ্রেফতার করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এই হত্যাকারি যেই হোক যারাই হোক তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, মৌলভীবাজারের দুটি ছাত্র সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হয়েছে। এইহত্যাকা-ের তীবৃ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ সব বাধা উপেক্ষা করে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য।
জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবুল হলেন, মৌলভীবাজারবাসীর কাছ থেকে দুটি তাজা প্রাণ চলে গেল। কেন গেল। কাদের ইশারায়। কে বড় ভাই? কে অমুক ভাই, কে তমুক ভাই। কে আসল মিয়া ভাই, এই মিয়া ভাইকে বের করতে হবে। যে বা যারাই আছেন। মৌলভীবাজারবাসী এসব সহ্য করবে না। যে বা যারাই লাঠি ঘুরাচ্ছেন। মৌলভীবাজারবাসী তাদের চিত্র দেখতে চায়। কত হ্যান্ডসাম ছেলেটা ছিল। কিন্তু আমরা ব্যবহার করলাম। তারপর বললাম আমাদের কেউ না। এই রাজনীতি মৌলভীবাজারে চলতে পারেনা। নিষ্পাপ প্রাণ আমাদের কাছ থেকে চলে গেল। যে যতই শক্তিশালী হোক কেউ ছাড় পাবে না।
জেলা যুবলীগের সভাপতি নাহিদ আহমদ বলেন, পুলিশের কাছে অনুরোধ এই হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য। এখানে দলমত নির্বিশষে সকলের একটাই দাবি এই হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রইল এই ধরণের বাহিনি যাতে আর তৈরি না হয়। আপনারা অগ্রিম ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
নিহত মোহাম্মদ আলী শাবাবের মা সেলিনা রহমান চৌধুরী বলেন, আমার দুটি পরিবার শোকাহত মর্মাহত। তুষার গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে শাবাব ও মাহিকে হত্যা করেছে। এইহত্যাকারিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। এদের কেউ যেন আশ্রয় প্রশ্রয় না দেয়ার জন্য অনুরুধ করছি। কার ইশারায় এদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। পুলিশএখনও নিরব কেন।
নিহত শাবাবের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিকি অশ্রুসিক্ত চোখ বলেন, স্কুল মাঠে দুটি ছাত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৌলভীবাজারে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। এরকম ঘটনা শোনি নাই।পৃথিবির বিভন্ন দেশে গেলে আমি বলতাম আমার মৌলভীবাজার শান্ত। আমি গর্বভোদ করতাম। আজকে আমি নিজেই ভিকটিম। একটি মানুষকে খুন করা, সাড়া জাতিকে ধংস করা।দুইটা মানুষকে খুন করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেল। অথচ আমরা এখনও জানতে পারলাম না কারা খুনি। আপনারা যার যার অবস্থান থেকে প্রশাসনকে চাপ দিবেন যাতে এই হত্যাকারিরাগ্রেফতার হয়।
নিহত নাহিদ আহমদ মাহির মামা ইমরান আলী বলেন, পুলিশ ১৩ দিনের মধ্য মাত্র ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু প্রধান আসামীসহ বাকীরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। পুলিশ নিরবথাকায় এমনটি হচ্ছে।
এছাড়াও পুলিশের ভুমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ-বিদেশ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। রহস্যজনক কারণে তারা আড়ালে রয়েছে। সুশীল সমাজের মন্তব্যযদি আসামীদের গ্রেফতার না করা হয় তাহলে পাল্লা দিয়ে শান্তির শহরে অপরাদ আরোও বেড়ে যাবে। অপরাধীদের হাতে দিনে-দুপুরে জীবন দিতে হবে শাবাব-নাহিদের মতো আরোওঅনেককে।



মন্তব্য করুন