ঢাকা-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার মহাসড়কে অবৈধ যানের দৌরাত্ব : শ্রীমঙ্গল থানা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘেষে গড়ে উঠেছে সিএনজি স্ট্যান্ড

February 5, 2020,

তোফায়েল পাপ্পু॥ শ্রীমঙ্গলে ঢাকা-সিলেট ভায় মৌলভীবাজার মহাসড়কে অবৈধ যানের দৌরাত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। শহরের পৌর এলাকার মৌলভীবাজার সড়কে অবস্থিত শ্রমঙ্গল থানা ও চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাঁ ঘেষে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অদৃশ্য ক্ষমতাবলে মহাসড়কে দৌরাত্ব চালাচ্ছে এসকল অবৈধ যান চালক ও শ্রমিকরা। কোন ধরণের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাস্তা দখল করে দিন-রাত এখানে স্থায়ীভাবে অবস্থানসহ অহরহ পার্কিং করছে। ফলে করে প্রধান সড়কে যানজট তৈরিসহ স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সহ পথচারীদেরকে নানা হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ ব্যপারে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের থেকে সিলেটের অভিমুখে সড়কের ডানপাশে অবস্থিত থানার সীমানা প্রাচীর ঘেষে বিশাল লম্বা লাইনে প্রায় অর্থ শতাধিক সিএনসি লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে। এর ওপর পাশে চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ঘেষে একটি টেবিল বসিয়ে এখান থেকে সিএনজিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মিনিটে মিনিটে সিএনজিগুলো লাইন ছেড়ে সড়কে উঠছে আবার ওপর দিকে থেকে সিএনজিগুলো লাইনে এসে ঢুকছে। দিনের সারাক্ষণ সিএনজিগুলো সড়কে উঠা-নামা করার কারণে সাধারণ পথচারীদের পাশাপাশি দূর পাল্লার যানবাহনগুলোও এখানে এসে চলাচলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। দিনের অধিক সময় এখানে দূর্ষটনার ঝুঁকি লেকেই থাকে।

চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক শীলা পাল, আনোয়ারা বেগম, বিলকিছ আক্তার, মিনতি দেব সহ আরো অনেকেই জানান,  বিদ্যালয় সম্মুখে সিএনজি স্টেন্ডের কারণে বিশেষ করে বিদ্যালয় শুরু ও ছুটির সময় এবং পরীক্ষার সময় মারাত্মকভাবে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে তারা শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাস্তায় স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারেন না। এছাড়াও তীব্র যানজটের ভীরে এখানে নারী-শিশু সহ পার্শবর্ত্তী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা রাস্তা পারাপারের সময় অনেকেই ইভটিজিং ও টিপ্পনীর শিকার হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

পথচারী শামীম হোসেন, আব্দুর রহমান, পিযুষ দাশ, অসীম রায় সহ আরো অনেকেই জানান, এখানে রিক্সা থেকে নামা কিংবা পায়ে হেঁটে রাস্তায় চলাচলের কোন জো নেই। লোক দেখা মাত্রই এখানে অবস্থিত সিএনজি চালকরা তাদের গাড়িতে ওঠানোর জন্য ডাকাডাকি শুরু করে দেয়! ফলে এই স্থানে এসে পথচারীদেরকে প্রতিনিয়তই বিব্রত হতে হয়।

এ ব্যাপারে থানা বা বিদ্যালয়ের সামনে স্ট্যান্ড স্থাপনের কোন বৈধ অনুমতি নেই উল্লেখ করে সিএনজি রেজি নং- ২৩৫৯ মৌলভীবাজার রোড গ্রুপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল আহমেদ জানান, আমরা শহরের বাইরে চলে গেলে সেখানে আমাদের গাড়িতে যাত্রী উঠতে চায় না। অন্য গাড়ীতে করে চলে যায়। তাই আমাদের দুই পয়সা ইনকামের জন্য আমরা এখানে অবস্থান করি।

চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরপদার বলেন, বিদ্যালয়ের নিরাপদ পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই সিএনজি স্টেন্ডটি মারাত্মকভাবে ঝুকি বহন করছে। তিনি আরো বলেন, ইতোপূর্বে দুই দুইবার এই স্টেন্ডটিকে শহরের অদূরে মৌলভীবাজার সড়কের ১নং পুল সংলগ্ন কুমিল্লা স্টেন্ড নামক স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছিলো। কিন্তু কয়েকদিন পরেই তারা পুনরায় এখানে এসে স্টেন্ড গড়ে তুলে। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বেশ কয়েকবার উপস্থাপন করা হলেও তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু বলেন, শ্রীমঙ্গল পৌর শহরকে যানজট ও কোলাহলমুক্ত রাখতে আমাদের আন্তরিকতার কোন কমতি নেই। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তথাপী ট্রাপিক পুলিশ, থানা প্রশাসন ও উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুছ ছালেক দুলাল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি পুলিশের একার পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সার্বজনীনভাবে উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। তবে মৌলভীবাজার সড়কে চলমান এসব সিএনজিসমূহের অবস্থানের জন্য কোন জায়গা নেই বলে এটিকে একটি বিবেচনার বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে ছিলো না। তবে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির পরবর্ত্তী মাসিক সভায় একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই স্টেন্ডটিকে এখান থেকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com