পরিবেশ আইন অমান্যকরে ব্রীজের মুখে পানি প্রবাহের পথে বাড়ি ও বাঁধ নির্মান বর্ষায় তলিয়ে যাবে গ্রাম ॥ প্রতিবাদে মানববন্ধন

বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গলে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে নিয়ম বহুভুত বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এতে প্রতিবছর বর্ষায় দূভোর্গে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদ বা সংশ্লিষ্টদের অনুমতি না নিয়ে নিজেরাই জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে স্থাপন করছেন ঘরবাড়ি। কখনও সম্পর্কের কারনে, কখনও অর্থের বিনিময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাড়ি নির্মানের অনুমতি নিয়ে চলছে জমির শ্রেণী পরিবর্তন। যার ফলে আমরা নিজেরাই নিজেদের ঠেলে দিচ্ছি ধ্বংসের দিকে।
এদিকে শ্রীমঙ্গল ভুনবীর উপজেলার শাষন গ্রামে শ্রীমঙ্গল সমশেরগঞ্জ সড়কের উপর স্থাপিত পানি চলাচলের একটি ব্রীজের মূখে বাড়ি নির্মানের প্রতিবাদে বুধবার মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
এ সময় স্থানীয়রা জানান, এই ব্রীজটি স্থানীয়ভাবে বাইন্নার ব্রীজ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ আমলেই গ্রামের ভিতরের পানি নিচ দিকে হাওর অভিমূখে পতিত হওয়ার জন্য এই সড়কে ব্রীজ স্থাপন করা হয়। বাইন্নার খাল দিয়ে উপরের পানি রাস্তার এক পাশ থেকে অপর পাশে চলে যায় এবং এই পানি দিয়ে অনেক সময় কৃষকরা চাষাবাদও করেন। ককেক বছর আগে শফিক মিয়া ও নুর মিয়া নামে দুই ব্যাক্তি শাইল রকমের জমি ক্রয় করে ব্রীজের মূখ বরাবরে বাড়ি স্থাপন করেন এবং সামনের দিকে ছোট পুকুর খনন করেন। এ সময় পানি ডানের জমি হয়ে পতিত হতো।
এদিকে একটি বাড়ির দেখাদেখি ওই জমির ডানের অংশে যে অংশ দিয়ে বর্তমানে পানি গড়িয়ে নিচে নামতো এখন সে অংশেও লিটন মিয়া নামে আরো একজন শুরু করেছেন বাড়ি নির্মান। এ বস্থায় লিটন মিয়াকে অন্যত্র বাড়ি করার জন্য একাধিক বৈঠকে বিচারকরা নির্দেশ দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।
এলাকাবাসী ও ভুনবীর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও ভুনবীর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, লিটন মিয়া গরিব মানুষ তিনি যে টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেছেন তাকে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আরো এক লক্ষ টাকা বেশি দিয়ে অন্যত্র বাড়ি করার অনুরোধ করা হয়। তিনি টাকা না নিয়ে বাড়ি করবেন না বলে জমি হিসেবে রেখে দিবেন বলে জানান। এতে পানি চলা চলে বাঁধা হবেনা মর্মে তিনি এলাকাবাসীকে জানান। কিন্তু বছর ঘুরতেই তিনি মাটি কেটে শুরু করেছেন বাড়ি নির্মান। এর ফলে এলাকাবাসী আবারও ফুসে উঠেছেন। এদিকে লিটন মিয়ার জমির বা পাশের মালিক রামেন্দ্র কুমার ভট্টাচর্য সরাজ রাস্তা থেকে তার জমির শেষ পর্যন্ত লম্বা করে মাটি ভরাট করে রাখেন এতে বাইন্নার খালের পানি হাওরে যাওয়ার রাস্তা সম্পুন্ন রুপে বন্ধ হয়েগেছে। এ অবস্থা বিরাজমান থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমে রাস্তার পশ্চিম পাশের কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত থাকবে। এ ব্যাপারে লিটন মিয়া জানান, “আমি গরিব মানুষ এখানে বাড়ি করলে আমার সুবিধা হয় তাই আমি বাড়ি করছি।” জমির শ্রেণী পরিবর্তন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয় এরকম কোন ধারণা তাঁর নেই। তবে তিনি জানান, তার বাড়ির সামনের দিকে ব্রীজের মুখের ডান দিকে তিনি ৪ শতক জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন যে দিকে পানি যেতে পারবে।
তবে আওয়ামীলীগ নেতা সুকেশ দেব জানান, লিটন মিয়া গরিব মানুষ তিনি ৪ শতক জায়গা পানির জন্য ছেড়ে দিবেন এটা কি সম্ভব। এখন পানি চলাচলের উল্টো গতিপথে জমি খালি রেখেছেন আর পানি প্রবাহের দিকে আরো কম জমি ছাড়লেও চলতো। অন্যদিকে এর চেয়ে অন্য জায়গায় ভালো পজিসনে রাস্তার পাশে ঐ টাকা দিয়ে তিনি বাড়ি করতে পারতেন। তিনি যখন জমি ক্রয় করবেন সে সময় থেকেই তাকে এমন প্রস্তাব দিয়ে আসা হচ্ছে।
রমেন্দ্র কুমার ভ্রট্টাচার্য্য সরাজ জানান, তার জমিতে তিনি মাটি ভরাট করেছেন। কারন পানি চলাচলের পথে লিটন মিয়াগংরা বাড়ি করায় সমস্ত পানি ডান দিকে এসে তার জমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। সারা জীবন ধরে পানি নিচের দিকে যাচ্ছে। হঠাৎ করে তারা পুলের মুখে বাড়ি করা শুরু করে দেয়। এটি পরিবেশর জন্যও ক্ষতিকর। তিনি জানান, টাকা দিয়ে তারা জমি ক্রয় করেছে। অন্য জায়গায়ও করতে পারতেন। আর তা না হলে হাওর অভিমুখে নিচের দিকে তারা পানির পথ রেখে বাড়ি করতে পারতেন। তা না করে তারা একের পর এক বাড়ি ও ঘর নির্মান করছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ভুনবীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চেরাগ আলী বলেন, ১০/১২ বছর ধরে পানি ডান দিকে যায়। লিটন গরিব মানুষ সে বাড়ি করছে। তাকে বারণ করলেও সে শুনেনি। এখন ডানে সরাজ ভট্টাচার্য্য বাঁধ দেয়ায় পানি প্রবাহের পথ পুরোটাই বন্ধ হয়েগেছে।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহাকারী কমিশনার ভুমি মাহমুদুর রহমান মামুন জানান, তিনি সরজমিন পরিদর্শন করে পানির স্বাভাবিক গতি পথে প্রতিবন্ধকতা পরিলক্ষিত করে যারা বাঁধ ও বাড়ি করছেন তাদের পানির পথ ছেড়ে দেয়ার নির্দিশ দিয়েছেন। নির্দেশ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।



মন্তব্য করুন