শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে গণধর্ষণ-আটক-৩ : পুলিশ সুপারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

বিকুল চক্রবর্তী: শ্রীমঙ্গলে এক গৃহ কর্মী কিশোরী গণধর্ষণের স্থান পরিদর্শন করেছেন মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার। এ ঘটনায় আটক তিনজনেকে রবিবার সকালে মৌলভীবাজার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুস ছালেক জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা রাতে মেয়েটিকে নিয়ে শাহ আলম পাটোয়ারীর বাসা থেকে পূর্ব পরিচিত প্রতিবেশী রিক্সা চালক কিশোর বয়সী ইয়াকুব মিয়া শহরের বধ্যভূমি এলাকায় ঘুরতে নিয়ে যায়। রাতে বধ্যভূমির পাশে ভুরভুরিয়া চা বাগানের রাস্তায় ঘুরাঘুরি করা অবস্থায় টমটম চালক তাদের দেখে গাড়ী থামায়। তারাও বাসায় ফেরার জন্য টমটমে উঠে। তখন টমটম শহরের দিকে না এসে চলে যায় চা বাগানের দিকে। এক পর্যায়ে টমটম চালক সহ টমটমে থাকা আরো দুই চা শ্রমিক ইয়াকুব মিয়াকে হাত-পা বেঁধে রেখে মেয়েটিকে চা বাগানের ভিতরে টেনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। রাতে বিষয়টি তাদের অবগত করলে তারা অভিযানে নামেন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কিশোরীকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে ওই টমটম চালকসহ ৩জনকে আটক করেন।
আটককৃতরা হলেন উপজেলার ভুরভুরিয়া চা বাগানের নারায়ন মালের ছেলে হরিমন মাল (৩৫),একই এলাকার সিতারাম মৃধার ছেলে মিন্টু মৃধা (২৯) ও সিন্দুর খান এলাকার মৃত ময়না মিয়ার ছেলে টমটম চালক কবির মিয়া (৩২) ।
কিশোরীর মা হোসেনে আরা জানান, শহরের রুপসপুর চিড়িয়াখানা সড়কে সুরোজ মিয়ার বাসায় তিনি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। তাদের আসল বাড়ী নোয়াখালী জেলায়। শ্রীমঙ্গলে মানুষের বাসায় তিনি গৃহকর্মী হয়ে কাজ করেন। তাঁর মেয়ে শহরের মিশন রোডের শাহ আলম পাটোয়ারীর মেয়ের স্বামীর বাসা দিনাজপুর জেলায় গৃহকর্মীর কাজ করে। দুই সপ্তাহ আগে মেয়েটি শ্রীমঙ্গলে মায়ের ছুটিতে এসেছিল।
মেয়েটির সাথে থাকা ইয়াকুব জানায়, খবর পেয়ে রাত ১১ টায় সেখান থেকে তাকে ও অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে তাদের বাসায় নিয়ে যান। পরে মেয়ের মাকে খবর দিলে তিনি মেয়ের এই অবস্থা দেখে মেয়েটিকে নিয়ে থানা পুলিশে যান। পুলিশ মেয়েটিকে ডাক্তারি ও চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং অভিযান চালিয়ে দুই চা শ্রমিক ও টমটম চালকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এ ব্যাপারে মেয়ের মা হোসনে আরা বেগম আরো জানান ইয়াকুব মিয়া তাদের পূর্ব পরিচিত ছিল। তিনি মেয়ের ধর্ষণকারী সবার উপযুক্ত বিচার দাবী করেন।
এ ব্যাপারে কিশোরীর মা হোসেনে আরা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।
এদিকে রবিবার সন্ধায় মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো: ফারুক আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় পুলিশ সুপার জানান, কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সকল আসামীদের আটক করে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্ধী নিয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।



মন্তব্য করুন