নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান কে স্মরণ : দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি ছিলেন সাইফুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারে দলীয় ও পারিবারিক উদ্যোগে নানা কর্মসূচী পালনের মধ্যদিয়ে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান কে স্মরণ করেছে মৌলভীবাজার বাসী। জেলাশহর জুড়ে বিশাল বিলবোর্ড ও জেলা শহর এবং উপজেলা শহরগুলোতে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের ব্যানারে ১৩ তম মৃত্যু বার্ষিকীর পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে।
কর্মসূচীর মধ্যে ছিল মরহুমের কবর জিয়ারত,কোরআন খতম,মিলাদ ও দোয়া মাহফিল,শিরনী বিতরণ,বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ প্রার্থনা ও এতিমখানায় শিশুদের উন্নত মানের খাবার বিতরণ ও জেলা বিএনপির আয়োজনে স্বরণসভা।
সোমবার ৫ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শত শত দলীয় নেতাকর্মীরা এম সাইফুর রহমান এর নিজ বাড়ী বাহার্মদ্দানে ভীড় জমান। প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে সাইফুর রহমান এর ছেলে এম কায়সার রহমান, এম সফিউর রহমান ও তাদের সন্তানেরা ফাতিহাপাঠ করে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এর পর সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ফয়জুল করিম ময়ুন এর নেতৃত্বে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি, সদর উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল,ওলামাদল, শ্রমিকদলসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, জেলা সদর ও জেলা সদরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলার বিএনপি,পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর ফুলের তোড়া দিয়ে মরহুমের কবরে শ্রদ্ধা জানান।
পুষ্পস্তবক অর্পণকালে প্রত্যেক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোঃ হেলু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক বকসী মিসবাহ উর রহমান প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফখরুল ইসলাম, সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম রিপন, প্রচার সম্পাদক মোঃ ইদ্রিছ আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান নিজাম, পৌর বিএনপির সভাপতি অলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ রশিদ, জেলা বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মারুফ আহমেদ, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক শামীম আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল করিম ইমানী, জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জিএম মুক্তাদির রাজু, জেলা ওলামা দলের আহবায়ক মাওলানা আব্দুল হেকিম,জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক সৈয়দ ফয়সল আহমদ, জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট গোবিন্দ মোহন পাল, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামীম জাফর, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি নেতা এম এ মজিদ, শামীম আহমেদ, কুলাউড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মুজিবুল আলম সোহেল,ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনিরসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
দুপুরে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ুনের সভাপতিত্বে বাহার্মদ্দানে জেলা বিএনপির আয়োজিত স্মরণ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ফয়সল আহমেদ, মৌলভীবাজার পৌর বিএনপির সহ সভাপতি সৈয়দ মমশাদ আহমদ, সদর উপজেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ, জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান আসকর,কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন আহমেদ জুনেদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম সিদ্দিকী, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান সোহান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ চৌধুরী সাহান, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক জনি আহমেদ প্রমূখ।
বিকেলে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সিলেট জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
সাইফুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন মৌলভীবাজার পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র ফয়জুল করিম ময়ুন বলেন, সাইফুর রহমান এর পরে দেশে কোন অর্থমন্ত্রী আমাদের কাছে পরিলক্ষিত হয়নি। আজকে এক পদ্মা সেতু করতে গিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে উন্নীত করে ৩০-৪০ হাজার কোটি টাকায় ব্যয় দেখানো হয়েছে। ব্যাংক খালি হয়ে গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দৈনদশা বিরাজমান। বাংলাদেশ এখন শ্রীলংকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আল্লাহর দরবারে মাফ চাই। কারণ শ্রীলঙ্কায় মানুষ দুই থেকে সোয়া দুই কোটি। আর আমাদের দেশের মানুষ প্রায় ১৮ কোটি। যদি শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা হয় তাহলে ধনী এবং স্বচ্ছল মানুষ যারা আছেন তারাও খাবার ঠিকমতো খেতে পাবেন না। কারণ তখন লক্ষ লক্ষ মানুষ না খেয়ে থাকবে। আমরা অবৈধ এই ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগ চাইছি।
আজকে এই সিলেটে অর্থ মন্ত্রী ছিলেন,আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী,প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, আছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। মৌলভীবাজারে আছেন আমাদের পরিবেশ ও বন মন্ত্রী। এতো মন্ত্রী থাকার পরও মৌলভীবাজারের কোন উন্নয়ন আমাদের চোখে পড়ে না। উল্লেখ যোগ্য কোন উন্নয়ন আমাদের কাছে নেই। এই সাইফুর রহমান মৌলভীবাজারের স্বাস্থ্য খাতের দৈন্য দশা ঘুচাতে গিয়ে তিনি সদর হাসপাতাল কে ৫০ বেড থেকে ২৫০ বেডে উন্নীত করেছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম আজকে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে এটি এতদিনে ৫০০ বেড হয়ে মেডিকেল কলেজে রুপান্তরিত হতো। এদিকে কারো কোন ভ্রক্ষেপ নেই। আমরা তিরস্কার জানাই। এম সাইফুর রহমান এর বাড়ি ছিল এই মৌলভীবাজারে। অথচ তিনি সারাদেশসহ বৃহত্তর সিলেট বিভাগের চারটি জেলার উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। সিলেট বিভাগ বাস্তবায়ন করেছেন। সিলেটে ইউনিভার্সিটিসহ সিলেট সিটি, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার পৌরসভার সকল জায়গায় সাইফুর রহমান এর উন্নয়ন ছিল একক। তিনি বৃহত্তর সিলেট বিভাগের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়ে চারটি জেলাকে যোগাযোগ, শিক্ষা স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করে সচল রেখে গেছেন। এই সিলেটে বিভাগে উন্নয়নের চালিকাশক্তি ছিলেন সাইফুর রহমান। অথচ বর্তমানে সিলেটের তিনজন চারজন মন্ত্রী থাকার পরও আমাদের মৌলভীবাজারে কোন উন্নয়ন দেখিনি। আমরা দেখেছি মৌলভীবাজারে একটি ফুলের বাগান উদ্বোধনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এসেছিলেন। কিন্তু সাইফুর রহমান কোন ফুলের বাগান উদ্বোধনের জন্য কোথাও যান নাই। তিনি গিয়েছেন অন্ধকারে আলো দেয়ার জন্য, অসংখ্য ব্রীজ, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধনের জন্য। তিন চারজন মন্ত্রী থাকার পরও মৌলভীবাজারের কোন মন্ত্রীর আগমন হয় নাই। কিন্তু যখন ফুলের বাগান উদ্বোধন হল তখন অনেকেই আক্ষেপ করে বলেছিলেন এরা কি এই দায়িত্ব পালনের জন্য মন্ত্রী হয়েছেন। আমাদের তো অনেক উন্নয়ন কাজ করার বাকি আছে। আজকে এই সাইফুর রহমান মন্ত্রী হয়ে এ সিলেট বিভাগসহ চারটি জেলায় একক উন্নয়ন কাজ করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেলেন। অথচ এই মন্ত্রীরা সাইফুর রহমান কে ধারণ করতে পারছেন না। তাঁর ধারেকাছেও যেতে পারছেন না। আমরা ধিক্কার জানাই। আমরা এখনো বলি আমাদের যে মৌলভীবাজারের কাজগুলো আছে সে পলিটেকনিক যে অবস্থায় ছিল সেভাবেই আছে। আমাদের হাসপাতাল যেভাবে ছিল সেভাবেই আছে। এগুলোর আর উন্নতি দেখছি না। গ্রামেগঞ্জে যেসব পিচরাস্তা আছে সেগুলোর রিপেয়ার কাজ পর্যন্ত করতে পারছে না। আজকে পদ্মা সেতুর নামে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এর আগে সাইফুর রহমান দেখিয়ে দিয়েছেন পদ্মা ব্রীজ কিভাবে হয়।
তিনি বলেন, বিএনপির আমলে যমুনা মাল্টিপারপাস ব্রীজ নামে আলাদা ফান্ড তৈরী করেছিলেন। তিনি তখন তার বন্ধু বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড উডকে বলেছিলেন আমার দেশটা যোগাযোগের জন্য দুভাগে বিভক্ত। আপনি আপনার প্রেসিডেন্টকে বলেন আমাদের পদ্মা ব্রীজটা করে দিয়ে আমরা যাতে দেশটাকে এক করতে পারি। আজকে সেই পদ্মা ব্রীজের কথা নাই। আজকে উদীয়মান বাঘ সাইফুর রহমান এর শক্ত হাতে অর্থনীতি গড়া বাংলাদেশ ইমাজিং টাইগার সেই কথাবার্তা নাই। সিলেট বিভাগ বাস্তবায়নের কথা নাই। আজকে আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবার শেয়ার বাজার লুটপাট করা হয়েছে। সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী ছিলেন না তখন তো শেয়ার বাজার লুটপাট হয়নি। পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন না কই তখন তো ব্যাংকে দুর্নীতি হয়নি। আজকে সাইফুর রহমান রেখে যাওয়া নীতি নৈতিকতা কে অনুসরণ করলে এই দেশ উন্নয়ন শীল দেশ হতে পারতো। আজকে আমরা এ সরকারের আমলেও শুনি উন্নয়ন শীল সরকার। কিন্তু কতটুকু উন্নয়ন জানি না। কিছুদিন পরে ২০২৪ সালের পরে যখন বৈদেশিক ঋনের বোঝা এই বাংলাদেশেক আমাদের কে বইতে হবে তখন বুঝা যাবে কত ধানে কত চাল।



মন্তব্য করুন