পরিবেশ বিপর্যয়ের অপরাধে বড়লেখায় দুই ট্রাক্টর চালককে জরিমানা

October 22, 2022,

আব্দুর রব॥ বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির করমপুর গ্রামের বিভিন্ন প্রাকৃতিক টিলা কেটে অসাধুরা পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাটি বিক্রি করছে। এতে টিলার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়ার হুমকিতে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় ভুমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) ও শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এক এসআই’র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে অসাধুরা অবৈধভাবে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে।
এদিকে, ২১ অক্টোবর শুক্রবার ভোরে সহকারী কমিশনার (ভুমি) জাহাঙ্গীর হোসাইন পুলিশ ও আনছার সদস্যদের নিয়ে করমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে টিলার মাটি কর্তন ও পরিবহনকালে মাটি ভর্তি দুইটি ট্রাক্টর আটক করেন। এসময় অবৈধভাবে টিলা কর্তন ও মাটি পাচারের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ২ ট্রাক্টর চালককে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। দ-িতরা হলেন চান্দপুর গ্রামের মৃত সফাত আলীর ছেলে কবির আহমদ ও করমপুর গ্রামের মৃত সফন আলীর ছেলে তোফায়েল আহমদ।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর পাহাড়-টিলার মাটি পাচারকারী চক্র, ট্রাক্টর চালক ও ট্রাক্টর মালিকরা স্থানীয় করমপুর মাদ্রাসায় মিটিং করে প্রশাসনকে নজরদারী করতে বড়লেখার অফিসবাজার, কানলিব্রিজ ও বিয়ানীবাজারের সারোপারে বিশ্বস্ত পাহারাদার বসিয়েছে। যাতে প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা এদিকে এলেই টিলা কাটায় নিয়োজিতদের জানিয়ে দেয়া হয় ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই যাতে তারা সটকে পড়তে পারে।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির করমপুর গ্রামের খাস ভুমির বিভিন্ন প্রাকৃতিক টিলা কেটে অসাধুরা মাটি বিক্রি করছে। অসাধুরা জহির আলী, মোতাহার আলী, ছমিরুন বিবি, আব্দুল বাছিত ও রাজনা বেগমের দখলিয় টিলার মাটি কিনে ট্রাক্টর যোগে বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর ও পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে।
উপজেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে টিলার মাটি পাচারকারী চক্র রাত তিনটা থেকে সকাল ৯-১০টা পর্যন্ত টিলা কেটে ট্রাক্টরযোগে মাটি পাচার করছে। উঁচু টিলা কাটায় পার্শ্ববর্তী বসতবাড়ি ধ্বসে পড়ার হুমকির মধ্যে পড়লেও মাটি পাচারকারী চক্র প্রভাবশালী হওয়ায় নিরীহ ভুক্তভোগীরা কোথাও অভিযোগ দেওয়ার সাহস পায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা জানান, রাস্তার পার্শ্বের টিলা কাটায় বৃষ্টি হলেই টিলার মাটি রাস্তায় পড়ে রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হয়ে উঠে। শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, বিজিবি ক্যাম্প ও ইউনিয়ন ভুমি অফিসের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যেই নির্বিচারে টিলা কেটে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটানো হলেও রহস্যজনকভাবে সংশ্লিষ্টরা থাকেন নীরব। তাদের অভিযোগ স্থানীয় তহশীলদার ও পুলিশ ফাঁড়ির এসআইকে ম্যানেজ করেই পাহাড়-টিলা ধ্বংশ করা হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মাসুক আহমদ জানান, দিনের বেলা টিলা কাটা কিংবা ট্রাক্টরযোগে মাটি পাচারের কোন দৃশ্য তার চোখে পড়েনি। পড়লে অবশ্যই তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, কয়েকদিন ধরে উত্তর শাহবাজপুর ইউপির করমপুরে টিলার মাটি পাচারের অভিযোগ পেয়েছিলেন। কাউকে কোন কিছু না জানিয়েই শুক্রবার ভোরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পান এবং চালকসহ টিলার মাটি ভর্তি দুইটি ট্রাক্টর আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুই ব্যক্তিকে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ১ লাখ টাকা করে সর্বমোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এসময় শ্রমিকসহ মাটি বিক্রির সাথে জড়িতরা পালিয়ে যায়। এদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com