চায়ের দেশ মৌলভীবাজারে বাড়ছে পর্যটক, প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার॥ শীত আসলে পর্যটকদের ঢল নামে চায়ের দেশ মৌলভীবাজারে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সাথে সাধারণ সরকারি ছুটি যুক্ত হলে পর্যটকদের ঢল আরও বেড়ে যায়। গেল টানা ৩ দিনের ছুটিতে পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে পর্যটকের সর্বোচ্চ ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাকৃতির চির সবুজ এ দৃশ্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন পর্যটকরা।
তারা জেলার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে প্রকৃতির অপরুপ এ দৃশ্য অবলোপন করতে চষে বেড়াাচ্ছেন। পাশাপাশি আসছেন বিদেশী পর্যটক। জেলায় যে দিকে তাকানো যায়, সে দিকে শুধু সবুজে ঘেরা প্রকৃতির দৃষ্টি নন্দন সমারোহ। এ সব দৃশ্য নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না প্রকৃতিযে কত সুন্দর।
জেলার উঁচুনিচু পাহাড়ী টিলা, হাওর, সমতল ভুমির মধ্যে অবস্থান রয়েছে চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেইক, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, মুরইছড়া ইকো পার্ক, বাইক্কা বিল, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্যের বাহক বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, মনু ব্যারেজ, বদ্ধভুমি এলাকা, হরিণছড়া গলফমাঠ, শিতেশ রঞ্জনের চিড়িয়াখানা, বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্য রাজকান্দি বন, শমসেরনগর বিমানবন্দর, ২শ বছরের প্রাচীন ছয়চিরী দিঘী, শমসেরনগর বাগীছড়া লেক, আলিনগর পদ্মলেক, খাসিয়া পুঞ্জি। এ ছাড়াও রয়েছে ছোট বড় অন্তত ৫০ পর্যটন স্পট।
গেল সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র, শনিবারের সঙ্গে খ্রিস্টানদের বড় দিন উপলক্ষে আরও একদিন রবিবার ছুটি থাকায় সারা দেশের সব পর্যটক এলাকার ন্যায় মোলভীবাজারেও পর্যটকের ঢল নামে। বেসরকারি উদ্যোগে এখানে গড়ে ওঠা পাঁচ তারকা মানের রিসোর্টসহ শতাধিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্টে গুলো আগে থেকেই শতভাগ বুক হয়ে যায়।
পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সামছুল হক জানান, এবারের পুরো শীত মৌসুমেই পর্যটকের আগমন ঘটবে। গত ২ বছর কোভিড-১৯ সংক্রামন থাকায় পর্যটক আসা বন্ধ ছিল। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাকি হওয়ায় চলতি শীত মৌসুমে দেশী পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকরাও আসছেন। তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত সহ পর্যটন জেলার সকল রেলওয়ে ষ্টেশনে পর্যটকদের জন্য ট্রেনের টিকেট বৃদ্ধির দাবী জানান। এছাড়াও পর্যটন স্পট গুলোকে আকর্ষণীয় করা হলেও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জামিল আহমদ ও পর্যটক আকাশ জামান বলেন, আমরা একাধিকবার এ অঞ্চলে এসেছি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এখন আবার আসলাম তাদের মাইন্ড রিফ্রেশ করার জন্য। এখানকার প্রকৃতি আমাদের মুগ্ধ করেছে। তবে হোটেল ও রিসোর্টে থাকার মূল্যেও পাশাপাশি খাবারের মূল্য বেশী। এছাড়ার এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করতে স্থানীয় ভাবে ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলে ভাড়া অত্যাধিক গুনতে হয়।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের অধিনে বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে রবিবার পর্যন্ত তিন দিনে শুধু লাউয়াছড়া উদ্যান থেকে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৪০৪ টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি পর্যটক নারী-পুরুষ, শিশুসহ ছিলেন ২২ জন। দেশি পর্যটক ৬ হাজার ৪১৯ জন ছিলেন। ছোট-বড় যানবাহন ছিল ৩৪৭টি। তিনি আরও বলেন, ২০২২ এর ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ এর ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক বেশী আসে। আর শীতের প্রায় শেষের দিকে পর্যটকরা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।
ট্যুরিষ্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, জেলার পর্যটন স্থান গুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পোষাক পড়া ও সিভিলে পুলিশ ডিউটি করছেন। পর্যটকরা যেন নিরাপদে ঘুরতে পারেন সে জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিষ্ট পুলিশ সবসময় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন বর্তমানে ট্যুরিষ্ট পুলিশের জনবল ও ট্রান্সপোর্ট সমস্য রয়েছে। এগুলো বৃদ্ধি করলে ট্যুরিষ্ট পুলিশ সেবার মান ও নিরাপত্তা আরও ভালো দিতে পারবে।
জেলায় পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য কোন সুযোগ সুবিধে না থাকলেও ক্রমশ পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকরা মনে করেন জেলার পর্যটন স্থানগুলোকে আরো আকর্ষনীয় করে তোললে দেশী-বিদেশী পর্যটককের আগমন আরও বাড়বে। এতে করে এ শিল্প যেমন বিকশিত হবে তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।



মন্তব্য করুন