মৌলভীবাজারের শেরপুরে ৩ দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা শেষ হলো

January 15, 2023,

স্টাফ রিপোর্টার॥ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ৩ দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা মৌলভীবাজার জেলার শেরপুর এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পাড়ে শেষ হয়েছে। প্রায় দুইশত বছর পূর্ব থেকে চলে আসা মেলায় হাওর ও নদীতে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা দেশীয় প্রজাতির টাটকা মাছ কিনতে ক্রেতারা ও ব্যবসায়ীরা ভীড় জমান।

এ অঞ্চলের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন বছর ঘুরে কখন মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তাই আগে থেকে প্রস্তুত থাকেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জের সীমানা ঘেষে জেলার শেরপুর এলাকায় বসে প্রতি বছর মাছের মেলা। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মাছের মেলাটি শুরু হলে এটি এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া ৩ দিন ব্যাপী এই মেলা শেষ হয় রোববার দূপুরে।

মৎস্য ব্যবসায়ী কামাল মিয়া জানান ৭৬ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ পদ্মা নদী থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মূল্য চান ২ লক্ষ টাকা। মাছ বিক্রেতারা জমির আলী সহ আরও কয়েক জন জানান, হাওর ও নদীতে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা মাছ সাধারণত নিয়ে আসেন এই মেলায়।

মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাওর ও নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন মৎস্য তারা। মেলায় আগত ক্রেতা সাবু মিয়া, আবুল হোসেন সহ আরও অনেকে জানান, হাওর ও নদীতে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা দেশীয় প্রজাতির রুই, কাতলা, বোয়াল, গজার, বাঘাইড় ও আইড় মাছ টাটকা কিনতে আসেন মেলায়। আর এ মাছ কেনার প্রস্তুতি তারা নেন বেশ কয়েকদিন আগে থেকে।

মেলায় পার্শবর্তী কুশিয়ারা নদী, হাকালুকি হাওর, কাওয়াদিঘি হাওর, হাইল হাওর ও সুনামগঞ্জের টাঙুগুয়ার হাওর সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোলায় মৎস্য ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন প্রজাতির বিশাল আকৃতির মাছ নিয়ে আসেন।

মাছের মেলা অয়োজক কমিমিটি আহবায়ক, তপু ভৌমিক জানান এ বছর বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমান মাছ নিয়ে আসেন। অন্যান্য বছরের তোলনায় মাছের মূল্য কম থাকায় বিক্রিও বেশী হচ্ছে। মেলায় ৩০টি মৎস্য আড়ত এ হাক-ডাকের মধ্যে পাইকারি মাছ বিক্রি চলছে এবং খুচরা সহ¯্রাধিক দোকানে মাছ বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবারের মেলায় প্রায় ২৫ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিয্যবাহী এই মাছের মেলা মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। মেলায় দেশের বিাভন্ন স্থান থেকে মাছ নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা।

যদিও এটি মাছের মেলা নামে পরিচিত তথাপি মাছ ছাড়াও ফার্নিচার, গৃহস্থালী সামগ্রী, খেলনা সহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের দোকান স্থান পায়। বর্তমানে এই মাছের মেলা জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে মিলনমেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com