বড়লেখায় দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা, অবশেষে থানায় মামলা রেকর্ড

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় দিনমজুর সুজন দাসকে পিটিয়ে মূখে বিষ ঢেলে হত্যা ঘটনার প্রায় এক মাস পর অবশেষে থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার ১৩ এপ্রিল রাতে মামলাটি (নম্বর-০৬/২০২৩) রেকর্ড করেন থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান। নিহত সুজন দাস উপজেলার দক্ষিণ বাগিরপার গ্রামের মৃত ককিল চন্দ্র দাসের ছেলে।
এই হত্যা মামলার আসামীরা হলো- উপজেলার দক্ষিণ বাগিরপার গ্রামের শৈতেন দাসের ছেলে শিমুল দাস (২৫), মৃত প্রমেশ দাসের ছেলে পিংকু দাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শৈলেন্দ্র দাসের ছেলে মনিলাল দাস (৩০)।
জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ বাগিরপার গ্রামের পরেশ বিশ্বাসের ফলানো বোরো ধান গরুকে খাওয়ানোর জন্য প্রায় রাতে কে বা কাহারা চুরি করে কেটে নিয়ে যায়। কৃষক পরেশ বিশ্বাস চেষ্টা চালিয়েও ধান চোরদের সনাক্ত করতে পারেননি।
এলাকায় সহজ সরল হিসেবে পরিচিত দিনমুজর সুজন দাস গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শৈলেন্দ্র দাসের ছেলে মনিলাল দাস, শৈতেন দাসের ছেলে শিমুল দাস, প্রমেশ দাসের ছেলে পিংকু দাসকে ক্ষেতের ধান কেটে নেওয়ার দৃশ্য দেখে ফেলে। বিষয়টি সে কৃষক পরেশ বিশ্বাসকে জানিয়ে দিলে তিনি এলাকায় বিচারপ্রার্থী হন।
এতে মনিলাল দাস, শিমুল দাস ও পিংকু দাস দিনমজুর সুজনের উপর ক্ষীপ্ত হয়ে ৪ মার্চ একদফা তাকে প্রচন্ড মারধর করে। ১৪ মার্চ এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান (কীর্তন) থেকে ফেরার পথে দ্বিতীয় দফায় তারা সুজন দাসকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।
পরে অজ্ঞান অবস্থায় তারা সুজনের মূখে বিষ ঢেলে দেয়। চারদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সে মারা যায়। হত্যাকারীরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় হত্যাকান্ডটিকে ভিন্নখাতে প্রভাহিত করতে তারা সুজন দাস বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালায়।
নিহত সুজন দাসের মা অর্চণা রানী দাস পুত্র হত্যার অভিযোগে ঘটনাকারী তিন জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন। মঙ্গলবার আদালত এই হত্যা মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করে এফআইআর প্রেরণের জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড করেছেন। শনিবার দুপুরে মামলার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।



মন্তব্য করুন