ইদুল আজহা: তাকওয়া, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা

মাওলানা বশির আহমদ : ইদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহান ইবাদত ও আত্মত্যাগের শিক্ষা। কোরবানি কেবল পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহভীতির এক জলন্ত উদাহরণ। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনই কোরবানির মূল উদ্দেশ্য। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর নিকট পৌঁছে না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সূরা হজ: ৩৭)
দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সমাজে অনেকের নিকট কোরবানি ইবাদতের চেয়ে প্রতিযোগিতা, বাহাদুরি ও সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কেউ বড় পশু ক্রয় করে লোক দেখানো গৌরব প্রকাশে ব্যস্ত, কেউ আবার ফটোসেশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে আত্মপ্রচারে লিপ্ত। অথচ কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো বিনয়, আন্তরিকতা ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
আরও পরিতাপের বিষয় হলো, অনেকে যাকাত আদায়ে অনীহা প্রকাশ করলেও কোরবানির বাহ্যিক চাকচিক্যে অগ্রগামী হয়ে থাকেন। অথচ ইসলাম সকল ইবাদতের ক্ষেত্রেই আন্তরিকতা, তাকওয়া ও আল্লাহর বিধানের অনুসরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। ইবাদত যদি লোক দেখানো বা আত্মপ্রদর্শনের মাধ্যমে কলুষিত হয়, তবে তার সাওয়াব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, মহিলারা কোরবানির পশুর হাটে বেপর্দা অবস্থায় উপস্থিত হচ্ছেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। ইসলামের দৃষ্টিতে পর্দাহীনতা ও অশালীন প্রদর্শন কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইবাদতের একটি কাজে যদি শরীয়তের সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়, তবে সেই কাজটি পরিপুর্ণ ভাবে আদায় হতে পারেনা বরং তা গুনাহের কারণ হয়ে যায়। তাই নারী-পুরুষ সকলের উচিত ইসলামের সীমারেখার মধ্যে থেকে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং শালীনতা ও পর্দার বিধান মেনে চলা।
এছাড়া কোরবানি, জবাই ও গোশত বণ্টনের সময় অহংকার, অপচয়, লোক দেখানো মনোভাব ও আত্মপ্রচারের প্রবণতা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ তাকওয়া ও ইখলাসই ইবাদতের প্রাণ।
আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা না করলে বাহ্যিক আয়োজন আল্লাহর নিকট কবুলযোগ্য হবে না।
আসুন, আমরা সবাই কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করি,ত্যাগ, তাকওয়া, বিনয় ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। লোক দেখানো নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি আদায় করি। সমাজ থেকে অশালীনতা, অপব্যয় ও আত্মপ্রদর্শনের সংস্কৃতি প্রতিহত করি এবং ইদুল আজহার পবিত্রতা রক্ষা করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সহিহ নিয়তে কোরবানি আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
লেখক: মাওলানা বশির আহমদ, মৌলভীবাজার।



মন্তব্য করুন