বিজিবি-পুলিশের যৌথ অভিযান বড়লেখায় জিম্মায় থাকা ১৪ ভারতীয় অবৈধ মহিষের ৯টিই গায়েব!

August 22, 2026,

আব্দুর রব : বড়লেখায় বিজিবি-পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক ১৪টি ভারতীয় মহিষের কাগজপত্র যাচাইকালিন সময় পর্যন্ত মহিষগুলো নিজেদের জিম্মায় নেন স্থানীয় দুই বিএনপি নেতা। কিন্তু ভারতীয় অবৈধ নিশ্চিত হওয়ার পর উদ্ধারে গিয়ে বিজিবি-পুলিশ পেল মাত্র ৫টি মহিষ। অপর ৯টি মহিষ উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে বিজিবি-পুলিশ।

চোরাকারবারির প্রদর্শিত মালিকানার কাগজপত্র ভুয়া প্রমানিত হওয়ায় শুক্রবার বিকেলে বিজিবি-পুলিশের যৌথবাহিনী চোরাইপথে আসা ভারতীয় অবৈধ মহিষগুলো উদ্ধারে গিয়ে দেখে ১৪টির মধ্যে ৯টি মহিষই গায়েব। অবশেষে ৫টি ভারতীয় মহিষ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে যৌথ বাহিনী। অপর মহিষগুলো উদ্ধারের তৎপরতা চলছে। এব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, ১৪ আগস্ট বিজিবি বিওসি টিলা ক্যাম্পের আওতাধীন উপজেলার গৌড়নগর এলাকার  জনৈক লুৎফুর রহমান বিজিবির চোঁখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় অবৈধ মহিষের একটি চালান নিয়ে আসে এবং নিজ বাড়ির একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা। বিভিন্ন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি নিশ্চিত হয় লুৎফুর রহমানের বাড়িতে ১৪টি অবৈধ ভারতীয় মহিষ রয়েছে। পরদিন ১৫ আগস্ট মহিষগুলো উদ্ধারে বিজিবি-পুলিশ তার বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এসময় সে মহিষগুলোর মালিকানা দাবি করে দুইটি রশিদ প্রদর্শন করে। প্রাথমিক যাচাইয়ে রশিদগুলো ভুয়া বলে বিজিবি নিশ্চিত হলেও লুৎফুর ও তার ভাই হিফজুর মহিষ উদ্ধারে বাধা সৃষ্টি করে। লুৎফুরের মালিকানা দাবির কাগজপত্রের অধিকতর যাচাই-বাছাই সময় সাপেক্ষ হওয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদ ওই ১৪টি মহিষ বিজিবির কাছ থেকে নিজেদের জিম্মায় রাখেন। বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ও দুলাল আহমদ মহিষগুলো জিম্মায় নিলেও মহিষগুলোর সন্ধিগ্ধ চোরাকারবারি লুৎফুর রহমানের বাড়িতেই রেখে দেন।

এদিকে বিজিবি অধিকতর যাচাই ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে লুৎফুর রহমান ও তার ভাই হিফজুর রহমানের মালিকানা দাবির কাগজপত্র সম্পুর্ণ ভুয়া নিশ্চিত হয়ে শুক্রবার বিকেলে জিম্মাদারদের নিয়ে মহিষ উদ্ধারে যৌথ অভিযান চালায়।

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের সহকারি পরিচালক মেজর মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবি-পুলিশের যৌথ অভিযানে লুৎফুর রমহানের বাড়িতে কোনো মহিষ পাওয়া যায়নি। পরে পাশ্ববর্তী ডোবায় মাত্র ৫টি মহিষ পাওয়া গেলে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আতাউর রহমান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে  গৌড়নগরের চিহ্নিত চোরাকারবারি লুৎফুর রহমানের বাড়িতে ১৫ আগস্ট ভারতীয় অবৈধ মহিষ উদ্ধারে বিজিবি-পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। তার বাড়িতে ১৪টি ভারতীয় মহিষ পাওয়া গেলেও তা উদ্ধারে সে বাধা সৃষ্টি করে। কিছু ভুয়া কাগজপত্র প্রদর্শন করে মালিকানা দাবি করে। তার দেওয়া রশিদের অধিকতর যাচাইয়ে সময়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। ওই সময় পর্যন্ত স্থানীয় গ্রহণযোগ্য দুইজন গন্যমান্য ব্যক্তি ১৪টি মহিষ তাদের জিম্মায় রাখেন। মালিকানা দাবির রশিদগুলো যাচাই বাছাই শেষে ভুয়া প্রমাণ হওয়ায় শুক্রবার মহিষগুলো উদ্ধার করতে গেলে ১৪টির মধ্যে ৫টি পাওয়া  গেছে। অপর ৯টি মহিষ উদ্ধারের অভিযান চলছে। এব্যাপারে মামলার প্রস্ততি চলছে। শুধু মহিষ নয় সবধরণের সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com