বেদে সম্প্রদায়ের নারীকে ধ/র্ষ/ণের অভিযোগ: আ/সা/মির জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

September 17, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজারে বেদে সম্প্রদায়ের এক নারীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মো: আব্দুল আলিক (৩৬)-এর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আসামি মো: আব্দুল আলিক (৩৬) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সাবিয়া গ্রামের আব্দুল মন্নাফের ছেলে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), মৌলভীবাজারের তদন্ত প্রতিবেদন ও ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো: আলিক ও ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের ওসমানীনগর, গরুর বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৭নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের গুজারাই এলাকায় খসরু মিয়ার বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কাবিননামা সম্পন্ন করে ঘরে তুলে নেওয়ার কথা বলে আলিক ওই নারীকে আশ্বস্ত করলেও পরবর্তীতে বিয়ে করতে নানা তালবাহানা করতে থাকেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), মৌলভীবাজারের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহন লাল তালুকদার। তদন্ত কার্যক্রম সার্বিকভাবে তদারকি করেন- মো. জাফর হোসেন পিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত, পিবিআই, মৌলভীবাজার জেলা।

তদন্ত প্রতিবেদনে, মামলার অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তদন্তকালে অভিযোগ, ঘটনাস্থল, সাক্ষীদের বক্তব্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাকে ঘরে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আলিক বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। একপর্যায়ে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং আলিকের চাপে একাধিকবার গর্ভপাত করাতে বাধ্য হন বলেও অভিযোগ করেন। এছাড়া ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, তার ও তার মায়ের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আলিক বিভিন্ন সময়ে নগদ প্রায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে পৃথক একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমরা বেদে জাতি, মানুষকে বিশ্বাস করি। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সে আমার জীবন ও অর্থ দুটোই শেষ করে দিয়েছে। এদিকে, আদালতের আদেশের পর মামলাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রান্তিক ও অসহায় ওই নারীর অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com